ঢাকা | রবিবার | ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ৫ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

জামফারায় সশস্ত্র হামলায় অন্তত ৫০ জনের মৃত্যু, বহু অপহরণ

নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় জামফারা অঙ্গরাজ্যের বুক্কুয়ুম এলাকার টুঙ্গান দুছে গ্রামে গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সশস্ত্র অপরাধী চক্রের এক প্রহারী হামলায় অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, এই হামলায় নারী ও শিশুসহ বহু মানুষকে অপহরণও করা হয়েছে।

স্থানীয় আইনপ্রণেতা হামিসু এ ফারু জানান, শত শত মোটরসাইকেলে চড়া হামলাকারীরা রাতভর গ্রামটি ধ্বংস করে এবং শুক্রবার সকাল নাগাদ পর্যন্ত একাধিক বাড়ি-ঘরে গুলো ছুঁড়ে অগ্নিসংযোগ চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, হামলাকারীরা নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ও বাড়ি জ্বালিয়ে ত্রাসের পরিবেশ সৃষ্টি করে।

শহরের বাসিন্দারা ও স্থানীয় নেতারা অভিযোগ করেছেন যে এই ঘটনার আগে এলাকায় সশস্ত্র দুষ্কৃতকারীরা ঘোরাঘুরি করছিলেন এবং হামলার একদিন আগে প্রায় ১৫০টিরও বেশি মোটরসাইকেলে তারা দেখা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানানো হয়েছে যে লোকজন আগে থেকেই আশঙ্কা ও সতর্কবার্তা দিয়েছিল, কিন্তু নিরাপত্তা বাহিনী সময়মতো পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে—যার ফল নিরুপায় অনেক নিরীহ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে, বলে המקומিরা অভিযোগ করেন।

এই ঘটনার পেছনে বাড়তি ভয় ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। জামফারা ও সন্নিহিত নাইজার অঙ্গরাজ্যগুলোতে গত কয়েক বছরে সশস্ত্র ডাকাত দল ও বিদ্রোহী গোষ্ঠীর তৎপরতা বেড়েছে। গত সপ্তাহেই নাইজার অঙ্গরাজ্যের এক পৃথক হামলায় আরও ৪৬ জন নিহত হয়েছিল, যা দেশটির নিরাপত্তা সংকটের গভীরতা তুলে ধরে।

আন্তর্জাতিক সহযোগিতাও বাড়ানো হয়েছে। নাইজেরিয়ায় সম্প্রতি ১০০ মার্কিন সেনা পৌঁছেছে বলে সংবাদে বলা হয়েছে। নাইজেরীয় সামরিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই সেনারা সরাসরি সামনের সারিতে লড়াইয়ে অংশ নেবেন না; বরং তারা স্থানীয় বাহিনীকে উন্নত প্রশিক্ষণ, কারিগরি সহায়তা ও গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ে সহায়তা করবে। বিশেষত ড্রোন প্রযুক্তি ও পর্যবেক্ষণ পদ্ধতির মাধ্যমে অপরাধী চক্রের অবস্থান শনাক্ত করায় তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ন বলে জানানো হয়েছে।

তবে স্থানীয়রা এই সহায়তা কতটা কার্যকর হবে তাতে সন্দিহান। নিহতদের পরিবার, বাসিন্দারা এবং স্থানীয় নেতারা দাবি করেছেন যে তৎপরতার অভাব ও তৎপর সিদ্ধান্তের ঘাটতি যবে পর্যন্ত থাকবে ততদিন তারা নিরাপত্তা নিয়ে নিশ্চিত হবেন না।

উপজেলা ও রাজ্য কর্তৃপক্ষ আহতদের উদ্ধার, নিহতদের সৎকার এবং অপহৃতদের উদ্ধারে তৎপর হলেও এলাকায় আতঙ্ক ও বিষণ্ণতা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং বিচার ও দায়িত্বhowerতা কিভাবে নিশ্চিত করা হবে—এটাই এখন স্থানীয়দের প্রধান উদ্বেগ।