জামালপুর ও কিশোরগঞ্জে বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে সংশয়ে পড়েছেন অনেক শিক্ষার্থী। জামালপুরে প্রবেশপত্র না পাওয়ায় ১৭ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি। একইভাবে কিশোরগঞ্জের ভৈরবে কলেজ কর্তৃপক্ষের অবহেলায় ২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি মারজিয়া বেগম নামের এক শিক্ষার্থী।
জামালপুরের দড়ি পাড়া এলাকায় কয়েক বছর ধরে বেসরকারিভাবে পরিচালিত প্রশান্তি আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে মাধ্যমিক স্কুল রেজিস্ট্রেশন থাকলেও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়ার অনুমতি ছিল না। তাই এখানকার অধ্যক্ষ রেজাউল ইসলাম সেলিম জেলার বিভিন্ন কলেজ থেকে পরীক্ষার ব্যবস্থা করে আসছেন। তবে এ বছর কলেজ থেকে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পরীক্ষার জন্য রেজিস্ট্রেশন কার্ড ও প্রবেশপত্রের অর্থ নেওয়া হলেও প্রবেশপত্র সরবরাহ করা হয়নি। এই অনিয়মের জেরে সকাল থেকে কলেজ প্রাঙ্গণে আন্দোলন শুরু হয়। প্রকৃতপক্ষে এই পরিস্থিতিতে কলেজ কর্তৃপক্ষ প্রশান্তি আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের দরজা বন্ধ করে গা ঢাকা দেয়।
প্রশান্তি আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ রেজাউল ইসলাম সেলিমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) আফসানা তাসলিম জানান, কেউ কোনো অভিযোগ জানায়নি, তবে লিখিত অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে কিশোরগঞ্জের ভৈরবে, গজারিয়া ইউনিয়নের বাঁশগাড়ি গ্রামের জেড রহমান প্রিমিয়ার ব্যাংক স্কুল অ্যান্ড কলেজের মানবিক বিভাগে পড়া মারজিয়া বেগম পরীক্ষার ফরম সঠিকভাবে পূরণ করেও প্রবেশপত্র না পাওয়ার কারণে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি। কলেজ অফিস সহকারী মো. শফিকের ভুল কারণে তার ফরম ‘ডাবল ক্লিক’ হওয়ায় বাতিল হয়েছে। মারজিয়া জানিয়েছেন, ‘‘আমি টেস্ট পরীক্ষায় ভালো ফল করেছি এবং ফাইনাল পরীক্ষার প্রস্তুতিও ছিলো, কিন্তু প্রবেশপত্র না থাকার কারণে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারিনি, যা আমার জীবনের এক বছর নষ্ট করেছে।’’ তার বাবা স্বপন মিয়া বলেন, ‘‘কলেজ কর্তৃপক্ষের ভুলে আমার মেয়ের পরীক্ষা পিছিয়ে গেছে, যদিও তারা পরবর্তী বছরে বিনা ফিতে পরীক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।’’
কলেজ অধিকৃত শরীফ আহমেদ ঘটনার জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষকে দায়ী করেছেন এবং বারবার শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করেও সমাধান হয়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শবনম শারমিন জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এস.এম কামাল উদ্দিন হায়দার বলেন, ‘‘অ্যাডমিট কার্ড বোর্ড থেকে দ্রুত যদি বিতরণ করা হয় তাহলে ভুল সংশোধনের সুযোগ থাকে, তবে অনেক প্রতিষ্ঠান শেষ মুহূর্তে কার্ড দেয়, যা সমস্যা সৃষ্টি করে।’’
এভাবে জামালপুর ও কিশোরগঞ্জের ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষা বঞ্চনার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।








