ঢাকা | শুক্রবার | ১লা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৪ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

জীবদ্দশায় একজনের সর্বোচ্চ ১০ বছর প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা উচিত: জামায়াত

জামায়াতে ইসলামী বিশ্বাস করে, একই ব্যক্তি তার জীবনকালে সর্বোচ্চ দশ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা উচিত না। রবিবার (২২ জুন) দুপুরে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের দ্বিতীয় পর্যায়ের আলোচনার শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফকালে দলের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের এই মত প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “বার ও মেয়াদ নিয়ে ঝামেলার মধ্যে আমি প্রস্তাব দিয়েছিলাম যে একজন ব্যক্তি জীবদ্দশায় সর্বোচ্চ দশ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না।” তিনি সকলকে এই বিষয়ে একমত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “বার ও মেয়াদের ব্যাখ্যায় যাওয়ার প্রয়োজন নেই। তিনটি দল ছাড়া সবাই এই প্রশ্নে এক পৃষ্ঠায় এসেছি।” জামায়াতের নায়েবে আমির আরও বলেন, “অর্থাৎ একজন ব্যক্তি তার জীবনে সর্বোচ্চ ১০ বছর প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করতে পারবে, সেটা যতবারই হোক। এটা জাতির আকাঙ্ক্ষা এবং আমাদের উচিত সবাই মিলিত হয়ে এ সিদ্ধান্তে আসা।” সরকারে মেয়াদসীমা সীমাবদ্ধ করা একটি বহুদেশে প্রচলিত নজির, যা বাংলাদেশেও অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, “আমরা এই বিষয়ে প্রায় ঐকমত্য অর্জন করেছি, বিকালে আরও দুটো বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।” বৈঠকে জামায়াতের নায়েবে আমির আলী রীয়াজ ছাড়াও ছিলেন ঐকমত্য কমিশনের সদস্যগণ, যেমন জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রধান আবদুল মুয়ীদ চৌধুরী, পুলিশ সংস্কার কমিশনের প্রধান সফর রাজ হোসেন, নির্বাচন সংস্কার কমিশনের প্রধান বদিউল আলম মজুমদার, বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের প্রধান বিচারপতি এমদাদুল হক এবং দুদক সংস্কার কমিশনের প্রধান ইফতেখারুজ্জামান। উল্লেখ্য, ১৭ জুন অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় পর্যায়ের অসমাপ্ত আলোচনায় জামায়াতে ইসলামি অংশ নেয়নি, তবে অন্তর্বর্তী সরকারের যোগাযোগের পরে পরবর্তী দিন তারা অংশগ্রহণ করে। অন্যদিকে, সংসদের উচ্চকক্ষের আসন বণ্টন, জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল (এনসিসি) গঠন এবং আরও কয়েকটি বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো এখনো একমত হতে পারেনি। প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতায় ভারসাম্য আনতেই এনসিসি গঠনের পরিকল্পনা হচ্ছে। পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পদ্ধতি ও সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের বিষয়ে চার দিনের সংলাপের পরেও কোনো ঐকমত্য হয়নি। দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্যের সংজ্ঞা নিয়েও ভিন্নমত প্রকাশ পেয়েছে, এবং কমিশন এ বিষয়ে পরবর্তীতে ব্যাখ্যা প্রদানের কথাও ভাবছে।