দেশের দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে সরাসরি সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষাধীন ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় রাজধানীর কড়াইল বাসস্ট্যান্ডের পাশে টিঅ্যান্ডটি মাঠে এই কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী। একই অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের আরও ১৪টি স্থানে একযোগে এই কর্মসূচির কার্যক্রম উদ্বোধন ও বিতরণ শুরু করা হবে। এটি মূলত সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির অংশ, যার মাধ্যমে নিম্নআয়ের পরিবারের আর্থিক স্বাবলম্বিতাকে উৎসাহিত করা হবে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এপ্রপক্ষে মোট ৩ লাখ ২০ হাজার পরিবারকে এই ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। তবে দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য, আগামী জুনের মধ্যে প্রথম ধাপে ৪০ হাজার পরিবারের মধ্যে কার্ড বিতরণ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মার্চ থেকে শুরু করে সব মাসে ১০ হাজার করে সুবিধাভোগীর মাঝে এই কার্ড বিতরণ চলবে, যাতে জুন মাসের মধ্যে ৪০ হাজার পরিবারের মধ্যে কার্যক্রম শেষ হয়। এই পর্যায়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় প্রতিটি পরিবার মাসে ২,৫০০ টাকার নগদ অর্থ সহায়তা পাবে। এ উদ্যোগের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো নারীর ক্ষমতায়ন, যেখানে কার্ডটি পরিবারের মা বা নারী প্রধানের নামে ইস্যু হবে। এই টাকা সরাসরি ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে তাদের কাছে পৌঁছানো হবে। পাশাপাশি এই স্মার্ট কার্ডের সাহায্যে ওটিপি যাচাই করে সুবিধাভোগীরা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) কাছ থেকে সাশ্রয়ী মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে পারবেন। ভবিষ্যতে এই কার্ডের মাধ্যমে শিক্ষা উপবৃত্তি, কৃষি ভর্তুকি ও অন্যান্য সরকারি সেবা সংযুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ফ্যামিলি কার্ড পেতে নির্দিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ করতে হবে। অগ্রাধিকার পাবেন ভূমিহীন, গৃহহীন, প্রতিবন্ধী সদস্য যুক্ত পরিবার, হিজড়া, বেদে সম্প্রদায় ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর পরিবার। এছাড়াও, যেসব কৃষকের আবাদি জমির পরিমাণ ০.৫ একর বা তার কম, তারা এই সুবিধার আওতায় আসতে পারবেন। ২০২৮ সালের মধ্যে দেশের সামাজিক নিরাপত্তার বাজেটের জিডিপি অনুপাতকে ৩ শতাংশে উন্নীত করা সরকারের মূল লক্ষ্য, আর এ কার্ডের নীতিমালা সেই লক্ষ্যের দিকে একটি বড় পদক্ষেপ।
তবে এই সুবিধা পেয়েও কিছু কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। স্বচ্ছল ব্যক্তি বা পরিবারের সদস্যরা, যেমন সরকার বা পেনশনভোগী চাকরিজীবী, বাড়িতে এসি বা বিলাসবহুল যানবাহন ব্যবহারে যুক্ত ব্যক্তিরা, অথবা বড় ব্যবসায়ী ও সম্পদশালী ব্যক্তিরা এই সুবিধা পাবেন না। ইতিমধ্যে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার কয়েকটি গ্রামে এই প্রকল্পের প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষ হয়েছে, এবং সেখানকার হতদরিদ্র জনগণ ঈদের আগে ফ্যামিলি কার্ড পেয়ে যাবার অপেক্ষায় রয়েছেন। এ উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের সেই সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের জীবনমানের ব্যাপক উন্নয়নের আশা করছে সরকার।









