জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সমাজে বিচার, সংস্কার এবং নতুন বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে আগামী ৩ আগস্ট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সকলকে একত্রিত হতে আহ্বান জানিয়েছেন। এ সময় তিনি জানিয়েছেন, জুলাই সনদ এবং জুলাই ঘোষণাপত্র অবিলম্বে নিশ্চিত করা হবে।
শুক্রবার (২৫ জুলাই) বিকেলে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এনসিপির জুলাই পদযাত্রা ও পরবর্তী পথসভায় নাহিদ ইসলাম এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘‘নির্মিত নতুন বাংলাদেশের অন্যতম শক্তিশালী দুর্গ হবে সিলেট। এখানকার মানুষ আজ সেই শক্তি প্রমাণ করেছে।’’
নাহিদ আরও উল্লেখ করেন, ‘‘সিলেট বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে যুগ যুগ ধরে একাত্ম। জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবং দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে সিলেটের অবদান কিংবদন্তির মতো। ১৯৪৭ সালে সিলেটবাসী পূর্ববঙ্গের সঙ্গে থাকার জন্য রায় দিয়েছিলেন। তবে ব্রিটিশ, পাকিস্তান এবং আওয়ামী লীগ আমলেও সিলেটবাসী নানা বাধার সম্মুখীন হয়েছে, বিশেষ করে গ্যাস, বালি ও পাথরের মতো খনিজ সম্পদ থেকে বঞ্চিত হয়েছে।’’
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ সিলেটের ১৭ জন বীর মুক্তিযোদ্ধার স্মরণে তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘‘আমরা শহীদদের রক্তের শপথ নিয়ে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখতে এবং বাস্তবায়নে কাজ করছি।’’
নাহিদ বলেন, ‘‘লণ্ডনে বসবাসকারী প্রায় পুরো বাঙালি সমাজই সিলেটি। প্রবাসীরা দেশ-বিদেশে বাংলাদেশ ও সিলেটের সুনাম বাড়িয়েছেন। আমাদের প্রবাসী ভাইদের অবদান দেশের অর্থনীতিতে অপরিসীম, তাই তাদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তাও আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি।’’
পথসভায় এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, ‘‘এনসিপিকে বিএনপির বিরুদ্ধে নয়, একটি স্বাধীন রাজনৈতিক দল হিসেবে দেখতে হবে। আমরা দেশে চাঁদাবাজি এবং সিন্ডিকেট চালানোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেবো।’’ তিনি আরও জানান, ‘‘সিলেটের চা বাগানের শ্রমিকরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন; তাদের জন্য মজুরি ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করব।’’
দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘‘দেশ জনতার, প্রশাসনের, ব্যবসায়ীর বা সামরিক বাহিনীর নয়। আমরা জনতার বাংলাদেশ গড়ার জন্য কাজ করছি।’’ তিনি আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী মিডিয়া ও লেখকদের প্রতি সতর্ক করার পাশাপাশি এনসিপিকে ‘চাঁদাবাজ দল’ বলেই ভুল ধারণার প্রতিবাদ করেন। ‘‘আমরা আওয়ামী লীগের পুরনো চ্যাপ্টার বন্ধ করে নতুন রাজনৈতিক দল হিসেবেই এসেছি,’’ যোগ করেন তিনি।
এর আগে বিকেলে সিলেট নগরীর চৌহট্টা থেকে শুরু হওয়া পদযাত্রাটি গরমের কারণে সংক্ষিপ্ত করা হয় এবং কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পথসভায় পরিণত হয়। পথসভায় এনসিপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ বহু উপস্থিত ছিলেন।








