ঢাকা | মঙ্গলবার | ৩রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১৪ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

জ্বালানি দাম অপরিবর্তিত রাখায় আস্থা ফিরেছে, বড় পতনের পর শেয়ারবাজারে উত্থান

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার প্রভাবে রবিবার বড় ধরনের দরপতনের পর মাত্র এক দিনের ব্যবধানেই দেশের শেয়ারবাজার শক্তভাবে ফিরে এসেছে। সোমবার দিনের শুরু থেকেই ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) উল্লেখযোগ্য দর উত্থান দেখা গেছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক অস্থিরতার মাঝেও সরকার মার্চে জ্বালানি তেলের দাম না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে পুনরায় আস্থা ফিরে এসেছে — যা বড় পতনের তীব্র প্রভাবকে রোধ করে বাজারকে চাঙ্গা করেছে।

আজ সোমবার লেনদেনের প্রথম ঘণ্টা থেকেই ডিএসইতে অধিকাংশ শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়তে থাকে। প্রথম এক ঘণ্টার লেনদেনে অংশ নেওয়া ৩৮৬টি সিকিউরিটিজের মধ্যে রেকর্ড ৩৪৫টির শেয়ারের দাম বাড়ে; মাত্র ১৯টির দাম কমে এবং ২২টির দাম অপরিবর্তিত থাকে। এই বিস্তৃত ইতিবাচক প্রবণতার কারণে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৭৫ পয়েন্ট উর্ধ্বমুখী হয়ে ৫,৫৩৭ পয়েন্টে পৌঁছায়। একই ধারা ডিএসই শরিয়াহ ও ডিএসই-৩০ সূচকেও দেখা যায়; যথাক্রমে ১২ ও ২৩ পয়েন্টের বৃদ্ধি হয়েছে।

তবে লেনদেনের গতিতে ধীরতা ছিল স্পষ্ট — প্রথম এক ঘণ্টায় ডিএসইয়ে প্রায় ২১৫ কোটি টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, যেখানে গতকাল একই সময়ে ছিল প্রায় ৩৫১ কোটি টাকা। বিশ্লেষকরা বলছেন, দামগুলো বাড়লেও অনেক বিনিয়োগকারী এখন সাবধান অবস্থায় রয়ে গেছে এবং পরবর্তী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন, ফলে টর্নওভার কম রাখা হয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকরা আরও মন্তব্য করেছেন যে শেয়ারবাজার খুবই সংবেদনশীল; বিশ্বের যে কোনো প্রান্তে সংঘাত শুরু হলে তার প্রভাব দ্রুত এখানে পড়ে — ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের সময়ও এমন অস্থিরতা দেখা গিয়েছিল। তবু বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিতে জ্বালানির দাম অপরিবর্তিত রাখার সময়োচিত সিদ্ধান্ত বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় সান্ত্বনা হিসেবে কাজ করেছে। আরও একটি সহায়ক কারণ হলো দেশের নতুন সরকারের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন গভর্নরের পক্ষ থেকে আসা ইতিবাচক সঙ্কেতগুলো, যা বাজারে স্থিতিশীলতার প্রত্যাশা জাগিয়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, যদি এই ধারা বজায় থাকে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও বাড়ে, তাহলে গতকের বড় লোকসান থেকে বাজার ধীরে ধীরে উদ্দীপনা ফিরে পাবে। সারসংক্ষেপে বলা যায়, নীতিগত স্থিতিশীলতা ও সরকারী সংকেতগুলিই আজকের দিনে শেয়ারবাজারকে খাদের কিনারা থেকে টেনে তুলেছে।