ঢাকা | সোমবার | ৪ঠা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৭ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

ঝালকাঠির ভাসমান হাট দেখে মুগ্ধ আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত: পেয়ারা রপ্তানির নতুন সম্ভাবনা

বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলা ঝালকাঠিতে অবস্থিত বিখ্যাত ভাসমান হাট ও পেয়ারা বাগান পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত আবদেল ওহাব সাইদানী। রোববার ২০ জুলাই সকালে তিনি ভিমরুলি এবং আটঘর কুড়িয়ানা এলাকার পেয়ারা বাগান ঘুরে দেখতে পান এবং স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে সরাসরি আলাপ করেন।

রাষ্ট্রদূত পেয়ারা উৎপাদনের বাস্তব চিত্র প্রত্যক্ষ করার পাশাপাশি এখানকার নৌকা তৈরিতে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। পরিদর্শনের শেষে ড. আবদেল ওহাব সাইদানী বলেন, ‘ঝালকাঠির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং ঐতিহ্যবাহী ভাসমান হাট দেখে আমি ভীষণ মুগ্ধ। আলজেরিয়ায় পেয়ারা উৎপাদিত হয় না, তাই এখান থেকে পেয়ারা রপ্তানির যে সম্ভাবনা রয়েছে, তা গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করবো। আমি আশা করছি, এটি আলজেরিয়ার সরকার ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে বাস্তবায়িত করা সম্ভব হবে।’

তিনি যোগ করেন, ভিমরুলি ও আটঘর কুড়িয়ানা এলাকা কৃষির জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময়, আর এখানকার ভাসমান হাট ও পেয়ারা চাষাবাদ দেশীয় সংস্কৃতি ও অর্থনীতির একটি অনন্য অংশ হিসেবে যথেষ্ট মনোযোগ আকর্ষণ করে।

রাষ্ট্রদূতের এ সফরে ফরচুন গ্রুপের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান এবং আলজেরিয়ান দূতাবাসের সেক্রেটারি এ কে এম সাইদাদ হোসাইন উপস্থিত ছিলেন। মিজানুর রহমান জানান, আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত পেয়ারা রপ্তানির সম্ভাবনা যাচাই করতে এসেছেন এবং যদি তারা সম্মত হন, তবে ফরচুন গ্রুপ পেয়ারা সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ করে রপ্তানি কার্যক্রম শুরু করবে।

উল্লেখ্য, বর্ষাকালে ঝালকাঠি ও পিরোজপুরের বিস্তীর্ণ জলাভূমিতে গড়ে ওঠা ভাসমান পেয়ারা হাট বাংলাদেশে কৃষিভিত্তিক পর্যটনের অন্যতম আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। এই ভাসমান হাট শুধুমাত্র অর্থনৈতিক দিক থেকে নয়, সেখানকার পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও ঐতিহ্যের জন্যও পর্যটকদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়।