যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার যৌথ আয়োজনে হতে যাওয়া ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে ঘিরে আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা ফিফার ওপর নতুন করে চাপ বাড়ছে। টরন্টোর স্টেডিয়ামের সামনে, কানাডার উদ্বোধনী ম্যাচের আগে একদল বিক্ষোভকারী ফিফার ও ইসরায়েলের সম্পর্কের কঠোর নিন্দা জানিয়ে রাস্তায় নামেন। ব্যস্ত গার্ডিনার এক্সপ্রেসওয়ে বরাবর বিশ্বকাপের এক আনুষ্ঠানিক লোগো টোপে গোপন করে সেখানে বড় কাগজে ‘ফিফা থেকে ইসরায়েলকে বের করে দাও’ লেখা একটি বিশাল ব্যানার ঝুলানো হয়।
বিক্ষোভকারীরা বলেন, এই কর্মসূচির মাধ্যমে তারা ফিফার নেতৃত্বকে সরাসরি ও জোরালোভাবে প্রতিবাদ জানাতে চেয়েছেন। কর্মসূচির মুখপাত্র ফয়সাল ইব্রাহিম অভিযোগ করেন, ইসরায়েলের নৃশংসতা ও হত্যাযজ্ঞের বিরুদ্ধে ফিফা যথাযথ অবস্থান না নিয়ে পরোক্ষভাবে জড়িত থাকার ছাপ দেখাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘‘ইসরায়েল অবৈধভাবে দখল করা অঞ্চলে—বিশেষত পশ্চিম তীরের কিছু অংশে—ফুটবল ম্যাচ আয়োজন করে যাচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো এসব নিয়ে চুপ রয়েছে।’’
বিক্ষোভকারীদের আরও একটি দাবি ছিল ২০২৪ সালের শেষে গাজার মধ্যে আটক রয়েছেন এমন বিশিষ্ট ফিলিস্তিনি চিকিৎসক হুসাম আবু সাফিয়ার দ্রুত মুক্তি। উপস্থিতরা ট্রাফিকের ধাক্কা কাটিয়ে ব্যানার, স্লোগান ও বাচনবাণীর মাধ্যমে তাদের দাবি তুলে ধরেন এবং আন্তর্জাতিক ফুটবল মহলকে সিদ্ধান্ত নেয়ার আহ্বান জানান।
গত মার্চে ফিফা এক অভিযোগের প্রেক্ষিতে বলেছে যে পশ্চিম তীরের আইনগত অবস্থান আন্তর্জাতিক আইনের আলোকে অনিশ্চিত হওয়ায় তারা এখনই ইসরায়েলি ক্লাবসমূহের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে না। এই নীরব বা নিষ্ক্রিয় অবস্থানকে নিয়ে ফুটবলপ্রেমী ও মানবাধিকার কর্মীদের মাঝে ক্ষোভ বাড়ছে।
আন্তর্জাতিক স্তরে—কিছু জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞসহ—ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। টরন্টোর রাস্তায় অনুষ্ঠিত এই বিক্ষোভ নতুনভাবে ফিফার ওপর রাজনৈতিক ও নৈতিক চাপ সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে ক্রীড়া ও নীতিমালার সংমিশ্রণ নিয়ে তখনই তীব্র বিতর্ক দেখা দেয় যখন মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে।








