ঢাকা | শুক্রবার | ২৯শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১২ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

টানা দ্বিতীয় ঈদ জাহাজেই বন্দি ৩১ বাংলাদেশি নাবিক

পবিত্র ঈদুল আজহা সবার ঘরে-দোয়ার আনন্দ বঞ্চিত হয়ে পারস্য উপসাগরের জাহাজে কাটল বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’র ৩১ জন নাবিকের। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তাল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তারা এবার টানা দ্বিতীয়বারের মতো ঈদ বিদেশের জলরাশায় কাটিয়েছে।

স্থানীয় সময় সকাল আড়াই থেকে দশটার দিকে নেভিগেশন ব্রিজে একসঙ্গে ঈদের জামাত আদায় করেন নাবিকেরা। ক্যাপ্টেন মো. শফিকুল ইসলাম এর নেতৃত্বে সারিবদ্ধ হয়ে নামাজ চলা অবস্থায় প্রত্যেকের মনে ছিল পরিবারের কাছে ফিরতে না পারার বেদনাভরা আকুতি। জাহাজে ঈদের জন্য বিশেষ খাবার ও একে অপরের সঙ্গে হালকা কোলাকুলি থাকলেও প্রিয়জনদের পাশে না থাকা শূন্যতা সব আনন্দ ম্লান করে দিয়েছে।

জাহাজটি ২৭ ফেব্রুয়ারি কাতার থেকে স্টিল কয়েল নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলি বন্দরে পৌঁছানোর পর থেকেই শিপটি সমস্যা শুরু করে। পরবর্তী দিন থেকে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকলে ভূ-রাজনৈতিক কারণে জাহাজটি হরমুজ প্রণালী দিয়ে সরে যেতে পারছে না। যদিও ৮ এপ্রিল থেকে বড় পরিসরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে, ইরানের কড়া বিধিনিষেধের ফলে এবারও ‘বাংলার জয়যাত্রা’ অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। অন্য অনেক বাণিজ্যিক জাহাজ ইরানের অনুমতি নিয়ে পার হয়ে গেলেও বিষয়টি নিয়ে এই বাংলাদেশি জাহাজটির ছাড়পত্র এখনও মেলেনি।

নাবিকরা বলছেন, বাংলাদেশ সরকারের কূটনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত থাকলেও এখনও কোনো সবুজ সংকেত তারা পাননি। প্রতিটি দিন এখানে তাদের কাছে যুগের সমান; ক্যালেন্ডারের পাতার দিকে তাকিয়ে দিন গুনছেন তারা। ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলাম জানান, ‘‘আন্তর্জাতিক রাজনীতির ছায়ায় আমরা প্রায় তিন মাস ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে ভাসছি। কখন হরমুজ প্রণালী পার হতে পারব, তা এখনও অজানা।’’

নৌকর্মীরা মুক্তির আকুতি নিয়ে প্রতিদিন মোনাজাতে দেশ ও পরিবারের জন্য দোয়া করছেন। জাহাজে থাকা নাবিকদের পরিবার-স্বজনেরা তাদের দ্রুত নিরাপদে দেশে ফেরানোর জন‍্য সরকারের প্রতি তৎপরতা বাড়ানোর দাবিও জানাচ্ছেন।

এই ৩১ জন নাবিকের জন্য এখন দেশের প্রার্থনা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত, কার্যকর পদক্ষেপই একমাত্র প্রত্যাবর্তনের আশা। যতক্ষণ পর্যন্ত ইরানের ছাড়পত্র না মেলে, ততদিন পারস্য উপসাগরই তাদের অস্থায়ী ঠিকানা থাকবে।