ঢাকা | শুক্রবার | ২৪শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১০ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

টেরিবাজারে ১০ তলা ভবনে আগুনে দুইজন নিহত

চট্টগ্রাম নগরের ব্যস্ত টেরিবাজারে বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকালে কে বি অর্কিড প্লাজা নামের একটি ১০ তলা ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। ঘটনায় দুইজন নিহত এবং একজন গুরুচিকিৎসাধীনভাবে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

প্রাথমিক তদন্ত ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ভোরবেলা থেকে ওই এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন ছিল। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বিদ্যুৎ সচল হওয়ার পর মুহূর্তের মধ্যেই ভবনের চতুর্থ তলায় থাকা একটি টেইলার্স দোকান থেকে আগুন ধরে যায়। মুহূর্তেই আগুন পঞ্চম ও ষষ্ঠ তলায় ছড়িয়ে পড়ে।

নিহতরা হচ্ছেন— চট্টগ্রামের পটিয়ার বধুপুর মির্জাবাড়ি এলাকার মোহাম্মদ ইয়াসিন খালিফার ছেলে মোহাম্মদ ইউনুস (৫২) এবং পটিয়া থানাধীন বোয়ালখালী ইউনিয়নের পাচুরিয়া এলাকার মামুনুল কাদেরের ছেলে মোহাম্মদ সোলাইমান। আহত মোহাম্মদ মামুন (২৮)কে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল ও চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হলে চিকিৎসক দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন; আহত এককে ভর্তি রাখা হয়েছে এবং তার শারীরিক অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে আগুনের খবর পেয়ে তাদের ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টা ও তৎপরতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয় এবং সকাল ১০টা ৫৩ মিনিটে আগুন নির্বাপণ ঘোষণা করা হয়।

ফায়ার সার্ভিসের ডিউটি অফিসার ও প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন, প্রাথমিকভাবে আগুনের কারণ হিসেবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটের সম্ভাবনা জোরদার; তবে তদন্ত শেষে চূড়ান্ত কারণ বলা হবে।

অগ্নিকাণ্ডে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কাও রয়েছে। টেরিবাজার ব্যবসায়ী সমিতির বরাতে জানা যায়, যে টেইলার্স দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে সেখানে কর্মচারীদের বেতন-বোনাস দেওয়ার জন্য প্রায় ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা নগদ রাখা ছিল, যা পুড়ে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ভবনের নিচের পাঁচতলায় শপিংমল, ব্যাংক শাখা, জুয়েলারি ও টেইলার্সের মতো দোকানপাট এবং ওপরের পাঁচতলায় আবাসিক ফ্ল্যাট থাকার কারণে ক্ষয়ক্ষতি ব্যাপক হতে পারে।

আসন্ন সময়ে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা, ভবনের নিরাপত্তা লঙ্ঘন ও দায়-দায়িত্ব নির্ধারণে কড়া তদন্ত চালাবে বলেও জানানো হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন প্রাপ্তির পরই আগুন লাগার চূড়ান্ত কারণ, ক্ষতির পরিমাণ ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হবে।