ঢাকা | সোমবার | ৪ঠা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৭ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

ট্রাম্পের দাবি, ‘বিশ্বাসযোগ্য’ সব এপস্টিন নথি উন্মুক্ত হওয়া উচিত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার প্রকাশ্যে বলেন, যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টিন সংক্রান্ত বিচার বিভাগের তদন্তে থাকা যা কিছু ‘বিশ্বাসযোগ্য’ তথ্য আছে, তা জনসাধারণের সামনে আনা উচিত। এপস্টিন ইস্যুতে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ট্রাম্পের নিজ রক্ষণশীল সমর্থকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের মধ্যেই এ ধরনের বিবৃতি তার পক্ষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ সুর প্রদান করে।

ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, ধনী এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের রক্ষা করতে এপস্টিন সংক্রান্ত কেলেঙ্কারির তথ্য গোপন করা হয়েছে। এই বিষয়টি তাঁর রাজনৈতিক জীবনেই বৃহত্তম সমর্থন বিভাজনের পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

হোয়াইট হাউজে এক প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প বলেন, ‘অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি বিষয়টি ভালোভাবে সামলাচ্ছেন এবং যেটা তিনি বিশ্বাসযোগ্য মনে করবেন, সেটাই প্রকাশ করবে।’ তবে তিনি যুক্ত করেন, এপস্টিন সংক্রান্ত নথি মূলত তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ডেমোক্র্যাটদের হয়রানির জন্য তৈরি করা হয়েছে। যদিও নির্বাচনের আগে বহুবার তিনি বলেছিলেন, ‘সম্ভবত’ এই নথি প্রকাশ করবেন।

এই মন্তব্য ট্রাম্পের পূর্ববর্তী অবস্থানের তুলনায় একটি নমনীয় রূপ। এর আগে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে অনলাইনে এবং ওভাল অফিসে বলেন, এপস্টিন নিয়ে সমর্থকদের অতিরিক্ত আগ্রহ তিনি বুঝতে পারছেন না এবং এই বিষয় থেকে তারা এগিয়ে যাক। তিনি বলেন, ‘জেফ্রি এপস্টিনের ঘটনা কেন এত আগ্রহের বিষয় হবে আমি বুঝতে পারছি না, এটা বিরক্তিকর।’

তবে তার ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’ আন্দোলনের অনুগত অনেকেই বিশ্বাস করে আসছেন যে, ডিপ স্টেটের অভিজাতরা এপস্টিনের ডেমোক্র্যাটিক প্রভাবশালী বন্ধুদের রক্ষা করতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। প্রশাসন যখন এ ধরনের ষড়যন্ত্রমূলক তত্ত্ব নাকচ করে দিয়েছে, সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ বেড়ে গেছে।

এফবিআই ও বিচার বিভাগ এই মাসের শুরুতে জানায়, তারা কোনো ‘ক্লায়েন্ট তালিকা’ বা ব্ল্যাকমেইল সংক্রান্ত প্রমাণ খুঁজে পায়নি। এপস্টিনের মৃত্যু আত্মহত্যা ছিল এবং তদন্ত সম্পর্কিত অতিরিক্ত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হবে না।

এটাই প্রথমবার ট্রাম্প প্রশাসন সরাসরি এপস্টিন নিয়ে বিভিন্ন ডানপন্থী ষড়যন্ত্র তত্ত্ব অস্বীকার করেছে। এর আগে এমনকি ডানপন্থী শীর্ষ এফবিআই কর্মকর্তারাও এসব তত্ত্বকে উসকে দিয়েছেন। প্রশাসনের অভ্যন্তরেও এ ইস্যুতে বিভাজন দেখা গেছে। পাম বন্ডি ও এফবিআই ডেপুটি ডিরেক্টর ড্যান বংগিনোর মধ্যে তীব্র বাক্যবিতণ্ডা হয়েছে বলে জানা গেছে এবং বংগিনো পদত্যাগের কথাও ভাবছেন।

ট্রাম্পের নিরুত্তাপ প্রতিক্রিয়া সমর্থকদের ক্ষোভ কমাতে ব্যর্থ হয়েছে। ডানপন্থী প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বরা এখনও তাঁকে কঠোর সমালোচনা করছেন। এমনকি ফক্স নিউজের উপস্থাপক এবং ট্রাম্পের পুত্রবধূ লারা ট্রাম্পও প্রশাসনের কাছ থেকে ‘আরও স্বচ্ছতা’ দাবি করেছেন।

মার্কিন কংগ্রেসের স্পিকার মাইক জনসনও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এপস্টিন ইস্যুতে তথ্য প্রকাশের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন এবং বলেছেন, ‘সবকিছু উন্মুক্ত করা হোক, জনগণ তখন সিদ্ধান্ত নিক।’ তিনি পাম বন্ডিকে অনুরোধ করেছেন, তার বক্তব্যের মধ্যে অসঙ্গতি সম্পর্কে সুষ্ঠু ব্যাখ্যা দিতে এগিয়ে আসার জন্য।

এদিকে, গত ফেব্রুয়ারিতে পাম বন্ডি এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, তার কাছে এপস্টিনের ‘ক্লায়েন্ট তালিকা’ রয়েছে পর্যালোচনার জন্য, কিন্তু পরে তিনি যুক্তি দেন, আসলে এমন কোনো তালিকা নেই।

২০১৯ সালে নিউইয়র্কের এক কারাগারে এপস্টিন আত্মহত্যা করেন। তার বিরুদ্ধে নাবালিকাদের যৌন পাচারের গুরুতর অভিযোগ ছিল। নির্বাচনের আগে ট্রাম্প বলেন, তিনি এপস্টিন সম্পর্কিত নথি প্রকাশে কোনো সমস্যা দেখেন না। নথিতে তার নাম আছে কি না, এমন প্রশ্নে ট্রাম্প জানিয়েছেন, ‘না’, এবং যোগ করেছেন, বন্ডি তাকে ‘খুব সংক্ষিপ্তভাবে’ অবহিত করেছেন।