ঢাকা | শনিবার | ২৮শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ৯ই শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

ডব্লিউটিও সংস্কারে মৌলিক নীতি অক্ষুণ্ণ রাখতে সতর্কতার আহ্বান খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির

ক্যামেরুনের ইয়াউন্দেতে অনুষ্ঠিত বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) চতুর্থ মন্ত্রিসভার সম্মেলনে (এমসি১৪) বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ডব্লিউটিও সংস্কার প্রক্রিয়ায় অতিশয় সতর্কতার ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন যে সংস্কারের প্রয়োজন স্বীকার করলে ও তা কার্যকর করা গেলেও সংস্থার মৌলিক নীতিমালা ও সদস্যদের মধ্যে গঠিত নিয়মভিত্তিক সমঝোতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া চলবে না।

মন্ত্রী সম্মেলনের ‘ডব্লিউটিও রিফর্ম: ফান্ডামেন্টাল ইস্যুজ’ শীর্ষক অধিবেশনে অংশ নিয়ে বলেন, ডব্লিউটিওর মূল উদ্দেশ্য হলো সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্যভিত্তিক বিকাশকে উৎসাহিত করা এবং বৈষম্যহীনতা ও অন্তর্ভুক্তির ভিত্তিতে সকলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে গড়া এই বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার অর্জন সংরক্ষণ করতেই হবে, সংস্কারের নামে তাতে ছেঁড়াখানাহ করবেন না।

মন্ত্রী আরও বলেছেন, এমএফএন (Most Favoured Nation) সুবিধা, শুল্ক ও কোটামুক্ত বাজার প্রবেশাধিকার বা DFQF, এবং বিশেষ ও পার্থক্যমূলক ট্রিটমেন্ট (S&DT) বৈশ্বিক বাণিজ্যে সমতা ও অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। চলমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে—বিশেষ করে ২০০৮ সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকট এবং কোভিড মহামারীর পর—কিছু উন্নত দেশের মধ্যম আয়ের ধারাবাহিক বৃদ্ধিকে তুলে ধরে তিনি জানান, এর অর্থ এই নয় যে পুরনো কাঠামোকে সহজেই বদলে দেওয়া উচিত।

মন্ত্রী জানালেন, সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা হলেও তা করতে করতে সংস্থার অখণ্ডতা রক্ষা, পূর্বের অর্জন সংরক্ষণ ও সব সদস্যের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক, উন্নয়নমুখী ফল নিশ্চিত করা অত্যাবশ্যক। তিনি বিশেষভাবে সতর্ক করেছেন যে, নীতিগত পরিবর্তন বা নতুন ব্যবস্থাপনায় উন্নয়নশীল এবং স্বল্পোন্নত দেশগুলোর বিশেষ সুবিধাগুলো হুমকির মুখে পড়লে তা সংশোধনযোগ্য নয়।

উদ্বোধনী দিনে ডব্লিউটিও মহাপরিচালক এনগোজি ওকনজো ইওয়েলা বলেছিলেন যে বহুপাক্ষিক বাণিজ্যব্যবস্থা বর্তমানে বড় চাপের মুখে রয়েছে; বিরোধ নিষ্পত্তি কাঠামো কার্যত অচল এবং ভর্তুকি সম্পর্কিত তথ্য প্রদানে স্বচ্ছতার তীব্র ঘাটতি রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালের জন্য ১৬৬ সদস্য দেশের মধ্যে মাত্র ৬৪টি দেশই ভর্তুকি নোটিফিকেশন জমা দিয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের পক্ষে ডব্লিউটিও সংস্কার আলোচনা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ দেশের এলডিসি (শুধু স্বল্পোন্নত দেশ) তালিকা থেকে উত্তরণ চলমান রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের তরফে বলা হয়েছে, এলডিসি হিসেবে প্রাপ্ত বিশেষ ও পার্থক্যমূলক সুবিধা, শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত বাজারে প্রবেশাধিকার এবং নীতিগত নমনীয়তা উত্তরণের পর আংশিকভাবে হারিয়ে যায়—এসব বিষয়কে মাথায় রেখে বাংলাদেশের স্বার্থ সুরক্ষার প্রয়োজন রয়েছে।

সংস্থাটি জেনিভায় আলোচনার পর একটি রূপরেখা প্রস্তুত করেছে, যা এমসি১৪-এ উপস্থাপিত হয়েছে। ওই রূপরেখায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া, উন্নয়ন সম্পর্কিত ইস্যু, বিশেষ ও পার্থক্যমূলক সুবিধাসমূহ, সমতাভিত্তিক প্রতিযোগিতা এবং বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থাসহ নানা মূল বিষয়ের উল্লেখ আছে।

সম্মেলনে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল। দলটির সঙ্গে রয়েছেন বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং জেনিভায় বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারি। মন্ত্রী ও প্রতিনিধিদল এই আলোচনায় বাংলাদেশের স্বার্থ ও উন্নয়নমূলক উদ্বেগকে প্রয়োজনীয়ভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন।

সারকথা, মন্ত্রীর আহ্বান—ডব্লিউটিও সংস্কার প্রয়োজন হলেও সেটি সংস্থার মূল নীতিমালা বজায় রেখে, পূর্ব অর্জন রক্ষা করে ও সব দেশকে অন্তর্ভুক্ত করে করে করা হোক—এটাই 이번 সম্মেলনের অন্যতম নীতিগত বার্তা।