ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ২৩শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৯ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

ডুমুরিয়ায় মাছের দাম বেড়েছে, সবজি ও মাংসে রয়েছে স্বস্তি

খুলনার ডুমুরিয়া বাজারে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে প্রতিরূপ দেখা গেছে—সবজি ও ব্রয়লার মুরগির দাম বেশ কিছুদিন ধরে স্থিতিশীল থাকলেও বিভিন্ন প্রজাতির মাছের দাম উর্ধ্বমুখী। ডুমুরিয়ার পাইকারি ও কয়েকটি খুচরা কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্রই চোখে পড়েছে।

বাজার পর্যবেক্ষণে জানা যায়, কাঁচামরিচ প্রতি কেজি ২০০ টাকা, পটল ৪০-৫০ টাকা, শসা ৫৫-৬০ টাকা, বেগুন ৮০ টাকা, করলা ১০০ টাকা, পেঁপে ৩০-৪০ টাকা, লাউ প্রতি পিস ৪০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৫০ টাকা, টমেটো ১০০ টাকা, চিচিঙ্গা ৩৫-৪০ টাকা, ওল ৮০ টাকা, ঝিঙে ৪০-৫০ টাকা, ঢেঁড়স ৪০ টাকা এবং লেবুর হালি ১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খানিকটা খুচরা প্রান্তে দাম বেশি থাকার কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা পরিবহন, বিদ্যুৎ ও ভাড়া খরচ উল্লেখ করেছেন। তবে সরবরাহ ভালো থাকায় সবজির দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে রয়েছে বলে তাঁরা জানায়।

মাংসের বাজারে তেমন ওঠানামা দেখা যাচ্ছে না। ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিপ্রতি প্রায় ২৮০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩০০ টাকা, লেয়ারের দাম ৩০০-৩১০ টাকা, গরুর মাংস ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১২০০ টাকা কেজি হিসেবে বজায় রয়েছে।

অন্যদিকে মাছের মূল্যবৃদ্ধি ক্রেতাদের কষ্ট বাড়িয়েছে। বাজারে রুইয়ের দাম কেজিপ্রতি ২৫০-৪০০ টাকা, কাতল ৩৫০-৫৫০ টাকা, চিংড়ি ৮০০-১২০০ টাকা, ভেটকি ৪০০-৫৫০ টাকা, পাবদা ৩৫০-৪০০ টাকা, টেংরা ৫০০-৭০০ টাকা, তেলাপিয়া ১২০-১৬০ টাকা এবং পাঙাশ ১৫০-১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ১০-১৫ কেজি ওজনের বড় পাঙাশ বিক্রি হচ্ছে কেজিতে ৭৫০ টাকায়। মাছের দাম ভ্যারিয়েশনের কারণ হিসেবে খাবার, জ্বালানি ও চাহিদা-সরবরাহের পার্থক্য উল্লেখ করা হয়।

কাঁচামাল ব্যবসায়ী আব্দুল জলিল বলেন, “পাইকারি বাজার থেকে কাঁচা মাল এনে এখানে লেবার খরচ, ভ্যান ভাড়া, বাজারের ইজারা ও বিদ্যুৎ বিল মেটাতে হয়, এজন্য খুচরা দামে কিছুটা বাড়তি চাপ পড়ে। তবুও বর্তমানে সবজির সরবরাহ ভালো থাকায় ক্রেতারা সুবিধা পাচ্ছেন।”

বাজারে হাঁটতে আসা মুরগির ক্রেতা রবিউল ইসলাম বলেন, “মাছের দাম বেড়ে গেলে বাজেট টিপে পড়ে। তাই প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে এখন ব্রয়লার মুরগির ওপরই বেশি ভরসা করা হচ্ছে। মুরগির দাম দীর্ঘদিন একই থাকায় সাধারণ মানুষের বাজার করা কিছুটা সহজ হয়েছে।”

বিশেষ করে মাছের চড়া দামের প্রভাবে ক্রেতারা কেনাকায় বদল আনছেন—কারও কেউ সস্তা প্রোটিন কিনছেন, অন্যরা পরিমাণ কমিয়ে কিনছেন। স্থানীয় বাজার-দর এবং ক্রেতা চাহিদা অনুসারে পরবর্তী কয়েক দিন বাজারের ধারা কিরূপ হবে তা নজরে রাখা হচ্ছে।