ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৩ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযান পরিচালনা করলো ডিএসসিসি

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) আজ শনিবার (০৫ জুলাই) সম্রাট বাহাদুর শাহ জাফর উদ্যান সংলগ্ন এলাকার ডিএসসিসি অঞ্চল-০৪-এ ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে এডিস মশার প্রজনন স্থল ধ্বংস ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি লক্ষ্যে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযান পরিচালনা করেছে। এই কার্যক্রমে ডিএসসিসি প্রশাসক জনাব মো. শাহজাহান মিয়া এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় বিভাগের সম্মানিত সচিব জনাব মো. রেজাউল মাকছুদ জাহেদী উপস্থিত ছিলেন।

সকাল ছয়টায় শুরু হওয়া এই পরিচ্ছন্নতা অভিযানে ডিএসসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও স্বাস্থ্য বিভাগের প্রায় ছয় শতাধিক কর্মী ও স্থানীয় সোসাইটির মানুষ অংশগ্রহণ করেন। অভিযানটি ডিএসসিসির অঞ্চল-০৪-এর ৩৪, ৩৫, ৩৬, ৩৭, ৪২ ও ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডগুলোতে ড্রেন, নর্দমা ও ফুটপাতের ময়লা পরিষ্কার এবং মশার ঔষধ প্রয়োগের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। পাশাপাশি, স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় একটি জনসচেতনতামূলক র‍্যালিও অনুষ্ঠিত হয়, যাতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে উৎসাহিত করা হয়।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. রেজাউল মাকছুদ জাহেদী বলেন, “ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঢাকা শহরের বিশাল জনসংখ্যায় এ কাজ সফল করতে অবশ্যই স্থানীয়দের সচেতনতা প্রয়োজন। আমরা যদি নিজের আঙিনা নিজে পরিষ্কার রাখি, তাহলে ডেঙ্গুর প্রকোপ কমানো সম্ভব হবে।” তিনি আরও জানান, সরকার শিগগিরই ‘ডেঙ্গুসহ অন্যান্য মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে জাতীয় নির্দেশিকা-২০২৫’ প্রণয়ন করবে, যেখানে সরকারের পাশাপাশি নাগরিকদের দায়িত্ব স্পষ্টভাবে চিহ্নিত থাকবে।

ডিএসসিসি প্রশাসক মো. শাহজাহান মিয়া বলেন, “এডিস মশা নিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানটি ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আমাদের চতুর্থ বিশেষ কর্মসূচি। এর মূল লক্ষ্য স্থানীয়দের সম্পৃক্তকরণ ও সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ডেঙ্গুর প্রকোপ কমানো।” তিনি আরও জানান, সাধারণ মশক নিধন কার্যক্রমের পাশাপাশি এই অভিযানটি আরও জোরদার করা হয়েছে। প্রতিটি ফগার মেশিনের কীটনাশকের পরিমাণ দ্বিগুণ করে ৬০ লিটার করা হয়েছে এবং ঔষধ ছিটানোর কার্যক্রমের তদারকির জন্য অঞ্চলভিত্তিক টিম গঠন করা হয়েছে।

এই পরিচ্ছন্নতা অভিযানে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ জহিরুল ইসলাম, সচিব মুহাম্মদ শফিকুল ইসলামসহ অন্যান্য বিভাগীয় প্রধান ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ডিএসসিসি ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।