নবনির্বাচিত সরকারের শপথগ্রহণের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া চলার সময় সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তিনি ও তার মন্ত্রিসভার অন্তত ২০ জন উপদেষ্টা এবং সমমর্যাদার কয়েকজন কর্মকর্তা তাদের কূটনৈতিক (লাল) পাসপোর্ট সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেছেন।
প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস তাঁর দায়বদ্ধতা অনুযায়ী পদ ত্যাগের আনুষ্ঠানিক অংশ হিসেবে প্রায় এক সপ্তাহ আগে নিজ পাসপোর্ট জমা দিয়েছিলেন। স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন সূত্রগুলো জানান, এই পদক্ষেপ বিদায়ী প্রশাসনের নিয়মতান্ত্রিক ও স্বচ্ছ ক্ষমতা হস্তান্তরের এক উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, অনেক উপদেষ্টা নির্বাচনের আগেই — বিশেষ করে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনের পূর্বেই — তাদের কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন। সরকারি বিধি অনুযায়ী রাষ্ট্রবহুমূল্য স্থানে থাকা অবস্থায় প্রাপ্ত বিশেষ সুবিধা পদত্যাগের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফেরত দেওয়া বাধ্যতামূলক; এই আইনগত বাধ্যবাধকতা এবং নৈতিক দায়বদ্ধতাকেই সামনে রেখে উপদেষ্টারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তালিকায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের পাশাপাশি নাম উল্লেখ রয়েছে সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল এবং খাদ্য ও ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার।
অন্যান্য যারা পাসপোর্ট হস্তান্তর করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার, গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম বীরপ্রতীক, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, সাবেক বাণিজ্য ও শিল্প উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এবং তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানও তাঁদের লাল পাসপোর্ট সরবরাহ করেছেন। তালিকায় রয়েছেন আরও: সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম, সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা ফরুকী এবং নারী ও শিশু বিষয়ক উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ।
প্রশাসনিক ও বিশেষ দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী ও ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবও পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন। ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধি হিসেবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অংশগ্রহণকারী মাহফুজ আলম এবং আসিফ মাহমুদ সজীবও ক্ষমতা হস্তান্তরের সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত এই আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছেন।
সরকারের একজন কর্মকর্তা বলেন, যারা এখনো পাসপোর্ট হস্তান্তর বাড়েননি তাদের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা রয়েছে এবং সেই সময়ের মধ্যে সবাইই এই প্রক্রিয়া শেষ করবেন। দীর্ঘ ১৮ মাস পর নির্বাচিত সরকারের হাতে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব হস্তান্তরের এই মুহূর্তে বিদায়ী উপদেষ্টাদের পেশাদার ও নিয়মতান্ত্রিক আচরণ প্রশাসনিক মহলে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিয়েছে।








