প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমেদ তৈয়্যব দেশে বিদায় জানিয়েছেন। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে তিনি নেদারল্যান্ডের উদ্দেশে দেশে departure করেন। এর আগের দিন তিনি প্রথমে জার্মানি যাবেন বলে জানা গেছে। তিনি ছিলেন তথ্যপ্রযুক্তি, ডাক, টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা। দেশের বাইরে যাওয়ার পর নিজের কারণ উল্লেখ করে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দিয়েছেন।
একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, শনিবার সকালে তিনি দেশ ছেড়েছেন। তিনি নেদারল্যান্ডের নাগরিক হওয়ার ফলে তার পাসপোর্টও নেদারল্যান্ডের। দেশের বিদায়ের সময় মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা তাকে শুভেচ্ছা উপহার দিয়েছেন। জানাজায়, তিনি যে নেদারল্যান্ডের নাগরিক, সেটিও স্পষ্ট। জাতীয় নির্বাচন চলাকালীন সময়ে ৯ ও ১০ ফেব্রুয়ারি তিনি মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের কর্মকর্তাদের কাছে বিদায় জন্য যান।
ফয়েজ আহমেদ তৈয়্যব ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যাপক সংস্কারে নিরলস কাজ করেছিলেন। তার এসব কর্মকাণ্ডের জন্য তিনি বেশ আলোচিত ও সমালোচিতও হয়েছেন। দেশের বাইরে যাওয়ার পর নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি জানান, ফেব্রুয়ারির ৮, ৯ ও ১০ তারিখে তিনি আইসিটি, পিটিডি ও বিটিআরসি থেকে আনুষ্ঠানিক বিদায় নেন। এরপর তিনি নির্বাচন সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব সততা ও নিষ্ঠার সাথে সম্পন্ন করেছেন। প্রযুক্তি নির্ভর নির্বাচনী ব্যবস্থার ক্ষেত্রে তিনি কিছু অবদান রেখে গেছেন।
তিনি বলেন, “আমি আইসিটি, পিটিডি ও বিটিআরসির সাথে আমার শেষ কর্মদিবস। এর পরে আমি কাজের জন্য শুভেচ্ছা জানিয়েছিলাম, অফিসিয়ালি বিদায় নিয়েছি। সহকর্মীদের সাথে একটি গিফট ও গানের আয়োজনে বিদায় হিসেবে একটি সুন্দর দিন কাটিয়েছি।”
বিদায়ের মুহূর্তে তিনি বলেন, “একজন স্বচ্ছ, সৎ ও আত্মমর্যাদাশীল ব্যক্তিকে যেন কোনো ধরনের অসম্মানজনক কথা না শোনানো হয়। আমার এক সহকর্মী জিজ্ঞেস করেছিল, পরে কি করবেন? উত্তর দিয়েছি, অন্য কোনো চাকরি খুঁজতে হবে দ্রুত। কারণ দেশের জন্য কাজ করতে গিয়ে ব্যক্তিগতভাবে অনেক ক্ষতি হয়েছে। সব সঞ্চয় শেষ হয়ে গেছে।”
তিনি আরও জানিয়েছেন, “প্যারেন্টস মিটিং এবং স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য আজ পরিবারের কাছে যাচ্ছি। দীর্ঘ সময় ধরে পরিবার ও সন্তানকে সময় দেয়ার সুযোগ পায়নি। আজকের দিনটি বিশেষ কারণ এটি ভ্যালেন্টাইন ডে। অনেক বই উপহার পেয়েছি, সেগুলো সঙ্গে নিয়েছি। বিশ্রাম দরকার, কারণ দীর্ঘ ক্লান্তির জন্য স্বাভাবিকভাবে ঘুমের সমস্যা হচ্ছে। উপহার পাওয়া বইগুলো পড়ব, পাশাপাশি খোলা মেলা সংবাদ, কলাম ও সহকর্মীদের লিখিত মৌলিক গুলোর দিকে মনোযোগ দেব।”
তিনি সম্মানের সাথে জানান, “আমি ছোট করে হলেও জীবনে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা করেছি। দেশে নতুন ব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তি ও স্বচ্ছতা এনেছি। পুরোনো আইন ও নীতিমালা পরিবর্তনে পাগলের মত কাজ করেছি। এটি প্রায় ৫ বছরের একটি বৃহৎ প্রজেক্ট। এ বিষয়ে পেশাদার গবেষণা ও অডিট ফার্ম দ্বারা যাচাই করে দেখার আহ্বান জানাচ্ছি।”
“আল্লাহর শপথ করে বলতে পারি, আমি কখনো দুর্নীতি করিনি। আমি সৎ ও নির্ভুল ব্যক্তিত্বের। টাকা মারার জন্য আমি জোরপূর্বক কিছু করিনি। আমার বিরুদ্ধে মোবাইল ও টেলিকম ব্যবসায়ীদের অপপ্রচার হয়েছে, কিন্তু আমি তাদের কুৎসার মাথা নিচু করিনি।”
সবশেষে তিনি বলেন, “আমি দ্রুত নতুন চাকরি খুঁজবো এবং স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাব। সংসারে আমার স্ত্রী, সন্তানসহ একটি নিরাপদ জীবন উপভোগ করতে চাই। কিছু মানুষ আমাকে অপমান ও অবমাননা করেছে, যা আমার জন্য খুবই আহত করেছে। আমি মনে করি, দেশের অনেক যোগ্য ও সত্ ব্যক্তিবর্গ যথাযথ মূল্যায়ন পায় না, যা আমাকে অত্যন্ত ব্যথিত করেছে।”
অবশেষে তিনি লিখেছেন, “আমি সাধারণ মানুষ, সাধারণ জীবনযাপন করি। নিজের প্রতি আমি সৎ ও স্পষ্ট। আপনাদের দোয়া ও শুভকামনা চাই। সততা ও ন্যায়ের পথে থাকতে থাকুন।”







