ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী মো. আব্দুস সালাম ব্যাপারীকে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর পদ থেকে অপসারণ করেছে। এই সিদ্ধান্তের মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যেই, তাঁর বিরুদ্ধে বিদেশে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারের অভিযোগে পুলিশ অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) দ্রুত তদন্ত শুরু করে। রোববার (৮ মার্চ) সিআইডির একজন বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ওয়াসার শীর্ষ পদে এই গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ও তৎক্ষণাৎ আইনি পদক্ষেপের ফলে সরকারি মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, আজ দুপুরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে মো. আব্দুস সালাম ব্যাপারীর অপসারণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। ইতিমধ্যে মন্ত্রণালয় একটি পদত্যাগপত্র প্রস্তুত করে রেখেছিল, এবং আজ তার স্বাক্ষর নেওয়া হয়। ঢাকা ওয়াসার মতো গুরুত্বপূর্ণ ও জনসেবামূলক সংস্থার শীর্ষ নেতৃত্বের এই পরিবর্তন সম্পর্কে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী অবগত রয়েছেন বলে জানা গেছে। মূল উদ্দেশ্য হলো সংস্থার কার্যক্রমে গতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।
অপসারণের খবরে সঙ্গে সঙ্গে সিআইডির অর্থ পাচারের অনুসন্ধান শুরু হওয়া ব্যাপক গুরুত্ব পাচ্ছে। সেই সূত্র জানায়, আব্দুস সালাম ব্যাপারীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন দেশে অবৈধভাবে অর্থ স্থানান্তরের কিছু নির্দিষ্ট অভিযোগ ও তথ্য তাদের হাতে এসেছে। এই তদন্তের মাধ্যমে তাঁর আয়ের উৎস এবং বিদেশে অর্থ পাচারের প্রকৃত চিত্র উদঘাটনের চেষ্টা হচ্ছে। তদন্তকারীরা নিশ্চিত করতে চাইছেন যে, ওয়াসার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের সাথে কি এই অর্থ লেনদেনের সম্পর্ক রয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই অপসারণসহ সিআইডির তদন্ত বর্তমান সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে। সিআইডির বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তাঁর বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনে মামলা দায়েরের সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি, ঢাকা ওয়াসার নিয়মিত কার্যক্রম নির্বাহের জন্য নতুন নেতৃত্ব নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং সংস্থার অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে। এই ঘটনাগুলি দেশের পরিষেবা খাতে একটি শক্তিশালী বার্তা হিসেবে গণ্য হচ্ছে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথে গুরুত্বপূর্ণ এক পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।







