ঢাকা | বুধবার | ৬ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৯শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের বনায়ন ও সবুজায়নে বন অধিদপ্তরের সাথে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন এলাকায় বনায়ন ও সবুজায়নের জন্য ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এবং বন অধিদপ্তরের মধ্যে একটি স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। মঙ্গলবার নগর ভবনে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মাননীয় প্রশাসক মো. শাহজাহান মিয়ার উপস্থিতিতে কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে সচিব মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম এবং বন অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ঢাকা সামাজিক বন সার্কেলের বন সংরক্ষক হোসাইন মুহম্মদ নিশাদ এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেন।

এটি একটি পাঁচ বছর মেয়াদী চুক্তি, যার লক্ষ্য হলো ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের এলাকায় বায়ুদূষণ, পানিদূষণ, মাটিদূষণ, শব্দদূষণ ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণসহ পরিবেশ দূষণ প্রতিরোধ করা। এই উদ্দেশ্যে ল্যান্ডস্কেপ উন্নয়ন, বনায়ন ও সবুজায়নের মাধ্যমে পরিবেশের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করা হবে। চুক্তির আওতায়, কর্পোরেশন নির্বাচিত কিছু এলাকায় নগর বনায়ন কার্যক্রম পরিচালনা করবে এবং বন অধিদপ্তর কারিগরি পরামর্শসহ পূর্ণ সহযোগিতা প্রদান করবে। এছাড়া, বনায়ন পরিচালনার জন্য একটি তদারকি ম্যানুয়াল বন অধিদপ্তর সরবরাহ করবে। বনায়নের পরবর্তী সময়ে তার সুরক্ষা ও পরিচর্যায় স্থানীয় কমিউনিটির অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে।

সমঝোতা চুক্তির প্রথম ধাপে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন ৮১.১০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ৩৫টি মিডিয়ানের মধ্যে প্রায় ১৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ৬টি মিডিয়ানে ঘাস ও গাছ রোপণ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সম্মেলনে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বলেন, “১৯১৭ সালের পরিকল্পনায় ঢাকা শহরকে একটি বাগানের শহর হিসেবে গড়ে তোলার কথা ছিল। কিন্তু অপরিকল্পিত নগরায়ন, বাড়তি জনসংখ্যা ও আবাসনের চাপের কারণে শহরের সবুজ ও জলাশয় সংরক্ষণ ব্যাহত হয়েছে। যদি এখন কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তবে ঢাকা একটি পরিত্যক্ত নগরীতে পরিণত হবে।” ঢাকা শহরকে সুরক্ষিত রাখতে কর্পোরেশন পরিকল্পিত বনায়ন ও সবুজায়নে উদ্যোগ নিয়েছে বলেও তিনি জানান। আগামী অর্থবছরে বৃক্ষরোপনের জন্য ৫০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে। তিনি বন অধিদপ্তরের প্রতি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. জিল্লুর রহমান, সচিব মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম এবং বন অধিদপ্তরের সামাজিক বনায়ন শাখার উপ-প্রধান বন সংরক্ষক ড. মোঃ জগলুল হোসেনসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।