ঢাকা | মঙ্গলবার | ৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৮ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

ঢাকা-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় লাভজনক শুল্ক চুক্তির প্রত্যাশায় সরকার

বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এমন একটি শুল্ক চুক্তি করার আশায় রয়েছে যা উভয় দেশের জন্যই সুফল বয়ে আনবে, জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প recent একটি চিঠি পাঠানোর পর এই মন্তব্য করেন তিনি।

প্রেস সচিব জানান, ঢাকা ও ওয়াশিংটনের মধ্যে এমন একটি চুক্তি হতে যাচ্ছে যা দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন দফার আলোচনা আগামী ৯ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে।

বর্তমানে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিন ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থান করছেন এবং তিনি বাংলাদেশের পক্ষে আলোচনা চালাচ্ছেন। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমানও সরকারের প্রতিনিধিদলে রয়েছেন।

শফিকুল আলম আরও জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চিঠিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ১ আগস্ট থেকে বাংলাদেশের পণ্যের ওপর ৩৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবে। তবে বাংলাদেশ ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক দফা আলোচনা করেছে এবং আগামী ৯ জুলাইয়ের আলোচনায় শেখ বশিরউদ্দিন নেতৃত্ব দেবেন।

চিঠিতে ট্রাম্প উল্লেখ করেছেন, ‘‘আমরা ভবিষ্যতের বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে আপনার সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। যদি আপনি আপনার বাণিজ্য বাজার যুক্তরাষ্ট্রের জন্য খুলে দেন ও শুল্ক, অশুল্ক নীতি ও প্রতিবন্ধকতা প্রত্যাহার করেন, তাহলে আমরা এই শুল্ক আরোপের বিষয়ে পুনর্বিবেচনা করতে পারি।’’

ট্রাম্প বলছেন, শুল্কহার বাড়ানো বা কমানো যেতে পারে যা বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের ওপর নির্ভর করবে। তিনি অধ্যাপক ইউনূসকে লেখেন, ‘‘আপনি কখনোই যুক্তরাষ্ট্র দ্বারা হতাশ হবেন না।’’

চিঠিতে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১ আগস্ট থেকে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের যেকোনো পণ্যের ওপর ৩৫ শতাংশ হারে শুল্ক আরোপ করবে, যা অন্যান্য খাতভিত্তিক শুল্ক থেকে পৃথক। এছাড়া, শুল্ক এড়াতে ট্রান্সশিপমেন্টের মাধ্যমে পাঠানো পণ্যের ওপরও উচ্চশুল্ক আরোপ করা হবে।

ট্রাম্প জানান, ‘‘৩৫ শতাংশ শুল্কহার আমাদের দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর জন্য যথেষ্ট নয়। যদি বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য উৎপাদনের সিদ্ধান্ত নেয়, আমরা দ্রুত ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে সব অনুমোদন দিতে প্রস্তুত আছি, যা কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সম্পন্ন হবে।’’

এই পদক্ষেপের মাধ্যমে দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হতে পারে, যা বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।