ঢাকা | রবিবার | ১৮ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২৯শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

তথ্য উপদেষ্টা বললেন, গুজব ও অপতথ্য মোকাবিলায় গণমাধ্যমকে শক্ত অবস্থান নিতে হবে

তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলম বলেছেন, গুজব এবং অপতথ্য রুখতে গণমাধ্যমের কঠোর দৃঢ়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে, জনগণের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া আস্থাহীনতা দূর করার ওপরেও গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি। গতকাল সোমবার রাজধানীর বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সদস্যদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত ‘গণমাধ্যমের অপসাংবাদিকতা প্রতিরোধ এবং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের’ উপর বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি। এই কর্মশালার আয়োজন করে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল।

তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা গুজবের ব্যাপকতা তুলে ধরে বলorten, জেনে না-বুঝে গুজব এবং বিভ্রান্তিকর অপতথ্য ছড়িয়ে পড়ছে। এতে করে, বিগত সরকারের ১৫ বছর শাসনামলে এই অপতথ্য ক্রমশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ভূমিকম্প বিষয়ক কিছু সংবাদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেক গণমাধ্যম ভূমিকম্পের খবর দিয়ে জনগণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে, যা খুবই দুঃখজনক।

মাহফুজ আলম বলেন, যদি গণমাধ্যমে জনগণের আস্থা না থাকে, তাহলে যে কেউ যেকোনো বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করবে এবং দেশের শৃঙ্খলা নষ্ট হবে। এ জন্য, গণমাধ্যমের প্রতি জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। তিনি ভবিষ্যতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন সময়েও এই দায়িত্বশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের কার্যক্রম তুলে ধরে উপদেষ্টা আরও বলেন, এই প্রতিষ্ঠানের কাজের ক্ষেত্রটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, সেটি কোয়াসি জুডিশিয়াল (আধা-বিচারিক) প্রতিষ্ঠান। বিগত সরকার এই প্রতিষ্ঠাকেই অকার্যকর করে রেখেছিল। তবে, বর্তমানে অন্তর্বর্তী সরকার প্রেস কাউন্সিলকে কার্যকর করার উদ্যোগ নিয়েছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, সাংবাদিকদের তাদের অধিকার রক্ষা ও স্বাচ্ছন্দ্যে বসবাসের জন্য প্রেস কাউন্সিলের কাছে যাওয়ার সুযোগ থাকা উচিত। এর জন্য তিনি আইনসামঞ্জস্য থাকতে মাঝেমধ্যে প্রেস কাউন্সিলের শক্তিশালী ভূমিকা গ্রহন করতে আহ্বান জানান।

এছাড়া, এই প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিচারপতি এ. কে. এম. আব্দুল হাকিমের নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা। কর্মশালায় আরও বক্তব্য দেন দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস-এর সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ ও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি আবু সালেহ আকন। মোট ৫০ জন সাংবাদিক এতে অংশগ্রহণ করেন এবং অনুষ্ঠানের শেষে তাদের মধ্যে সনদ বিতরণ করা হয়।