গত এক দশকে হিন্দি সিনেমায় এক বড় পরিবর্তন দেখা গেছে — দর্শকরা এখন কেবল সুপারস্টারদের জৌলুসে মুগ্ধ থাকেন না; তারা সিনেমায় বাস্তব জীবনের স্পর্শ, সম্পর্কের সূক্ষ্মতা ও পরিচিত অনুভূতি চান। এই পরিবর্তনকে কাজে লাগিয়ে নিজের জায়গা করে নিয়েছেন আয়ুষ্মান খুরানা, যিনি বাণিজ্যিক সফলতা ও সৃজনশীলতা মিলিয়ে অভিনয়ে এক আলাদা মাত্রা যোগ করেছেন। চলচ্চিত্রবিশ্লেষকরাও মনে করেন ২০২৬ সালে তাঁর তিনটি ছবি এই যাত্রাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে।
আগামী বছরে আয়ুষ্মান পর্দায় হাজির হবেন তিনটি একেবারে ভিন্ন স্বাদের ছবিতে। প্রথমটি ‘পতি পত্নী অউর ও দো’—এটি দাম্পত্য জীবনের টানাপোড়েন, ছোটখাটো ভুল বোঝাবুঝি এবং সেই ভুলগুলো কিভাবে সম্পর্ককে প্রভাবিত করে তা লঘু-মেজাজে, কিন্তু প্রাসঙ্গিকভাবে উপস্থাপন করে। গল্পটি দৈনন্দিন জীবনের কাছে খুবই সমসাময়িক, তাই দর্শক সহজেই নিজেদের সঙ্গে যোগসূত্র খুঁজে পাবেন।
দ্বিতীয়টি ‘উড়তা তীর’—এটি প্রচলিত নির্মাণশৈলীর বাইরে গড়ে তোলা এক পরীক্ষা-নিরীক্ষামূলক ছবি, যেখানে দর্শক একেবারে অন্যরকম, অচেনা আয়ুষ্মান দেখতে পাবেন। সিনেমাটি বলার ধরন ও প্রবাহে পুরনো ধারাকে ছাড়িয়ে গিয়ে নতুন অভিজ্ঞতা দেওয়ার কথা বলছে।
তৃতীয় ছবিটি ‘ইয়ে প্রেম মোল লিয়া’, যা একটি ধ্রুপদী পরিবারকেন্দ্রিক কাহিনি—ভারতীয় ঐতিহ্য, সংবেদনশীল সম্পর্ক এবং পারিবারিক বন্ধনের গভীরতা এখানে প্রাধান্য পাবে। এটি অনুভূতিমূলক ও হৃদ্যতাময়, যা বহু দর্শকের মনে দীর্ঘস্থায়ী ছাপ ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চরিত্র নির্বাচন নিয়ে আয়ুষ্মান বলেছেন যে তিনি কোনো নির্দিষ্ট ফর্মুলা মেনে ছবি বাছাই করেন না; একজন দর্শক হিসেবে যে চিত্রনাট্য তাকে স্পর্শ করে সেটাই তিনি নিতে চান। একই বছরে তিনটি ভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করা তাঁর জন্য আনন্দের পাশাপাশি বড় দায়িত্বও বটে। এই বহুস্তরীয় কাজ করতে গিয়ে অভিনেতার পরিশ্রম ও গভীরতা দেখা যাবে।
এবারের প্রজেক্টগুলোর সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন বলিউডের প্রভাবশালী প্রযোজকরা—ভূষণ কুমার, করণ জোহর এবং সুরজ বরজাতিয়া। এসব অভিজ্ঞ প্রযোজকের সংস্পর্শে এসব ছবি কেবল বক্স অফিসে সাফল্যই পাবে না, দর্শকদের মনেও টেকসই দাগ ফেলবে বলে পরিচালনা ও প্রযোজনা দল আশাবাদী।
মোটকথা, ২০২৬ আয়ুষ্মানের জন্য এক নতুন চ্যালেঞ্জ ও সুযোগের বছর হতে চলেছে—তিনি কি আবারও নিজের বহুমুখী প্রতিভা প্রমাণ করতে পারবেন, তা দেখতেই দর্শক ও সমালোচকেরা অপেক্ষায় রয়েছেন।








