ঢাকা | রবিবার | ১লা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১২ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

তেহরান থেকে সরিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে রাখা হয়েছে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে তেহরান থেকে সরিয়ে একটি বিশেষ এবং নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়া হয়েছে। রাজধানীর কেন্দ্রের—তার প্রধান কার্যালয় ও প্রেসিডেন্সিয়াল প্রাসাদের খুব কাছেই—শক্তিশালী বিস্ফোরণ ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যাওয়ার পর এই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

স্থানীয় সময় শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টা ৩৫ মিনিটের পরে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়, তেহরানের আকাশে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত ব্যবস্থা নেন এবং খামেনিকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। রয়টার্স এই তথ্য জানিয়েছে।

কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী ও ঘটনাস্থলে থাকা সাংবাদিক জানিয়েছেন, তারা তেহরানের আকাশ জুড়ে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন এবং বিভিন্ন এলাকায় কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে। এখনো পরিষ্কারভাবে বলা যায়নি যে এসব বিস্ফোরণ সরাসরি কোনো ক্ষেপণাস্ত্র হামলের ফলে হয়েছে নাকি ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হওয়ায় এসব শব্দ ও কুণ্ডলী দেখা গেছে।

একই সময় তেহরানের দক্ষিণ ও পশ্চিম প্রান্তসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি এলাকায় ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা বিবিসি ও এএফপি জানিয়েছে যে খামেনির কার্যালয় ও প্রেসিডেন্সিয়াল প্রাসাদের মতো স্পর্শকাতর এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং সম্ভাব্য বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কায় দেশজুড়ে উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। প্রশাসন পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

এদিকে, কিছু সংবাদে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রতি মুহূর্তের ঘটনার প্রেক্ষিতে জনমনে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে ভুল ধারণা ছড়ার ফলে নিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়ে। দেশটির সরকারি সংবাদমাধ্যম আইআরএনএ এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে “প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সম্পূর্ণ নিরাপদ ও সুস্থ আছেন এবং তার কোনো সমস্যা নেই।” একই খবর স্থানীয় আরও কয়েকটি গণমাধ্যমও নিশ্চিত করেছে।

সাম্প্রতিক তৎপরতা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার পরিবর্তন সম্পর্কে সরকারি কর্তৃপক্ষ ও নিরাপত্তা বিভাগ থেকে পরবর্তী নির্দেশনা আসা পর্যন্ত পরিস্থিতি ছিলুতথ্য ধরে রাখা হচ্ছে। সংবাদসূত্র: রয়টার্স, বিবিসি, এএফপি ও আইআরএনএ।