ঢাকা | শুক্রবার | ১লা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৪ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

দিনে ২০০ থেকে সাড়ে ৩০০ মণ ইলিশ আসছে বরিশালের আড়তগুলোতে

বরিশালের নদী ও সাগরে হঠাৎ করে ইলিশের জেল ধরেছে প্রচুর পরিমাণে। এর ফলে বরিশালের সবচেয়ে বড় পোর্ট রোড মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র আবারো প্রাণ ফিরেছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, গত তিনদিন ধরে প্রতিদিন দুইশ থেকে সাড়ে তিনশ মণ ইলিশ পাইকারি আড়তে আসছে। তবে সরবরাহের অর্ধেকের বেশি ইলিশ ছোট আকৃতির হওয়ায় আড়তদাররা এর যথাযথ মূল্য পাচ্ছে না।

যদিও ইলিশ সরবরাহ বাড়ছে, তার পরও দাম নিম্ন আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে রয়েছে। এক কেজি জাটকা কিনতে এখনো সর্বনিম্ন পাঁচশ টাকা গুণতে হচ্ছে। তবে ব্যবসায়ীরা আশা করেন, সরবরাহ বাড়ার ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি মাসেই ইলিশের দাম আরো কমতে পারে।

বরিশাল নগরীর পোর্ট রোড ইলিশ মোকামে দেখা যায় ভোর পাঁচটার আগেই ইলিশ বহন করে অনেক ট্রলার বাজারে প্রবেশ করে। সাগর এবং নদীর মাঝামাঝি এই বন্দরে ইলিশ নামিয়ে জেলেরা আবার দ্রুত নদী ও সাগরে ফের মাছ ধরতে চলে যায়। আড়তদারদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে এখানে আসা ইলিশের অর্ধেকই স্থানীয় নদ-নদীর মাছ।

পোর্ট রোড আক্তার মৎস্য আড়তের আড়তদার আক্তার হোসেন জানান, গত কয়েক দিনে ইলিশের দাম কিছুটা কমে এসেছে কারণ সরবরাহ বেড়েছে। LC সাইজের (৭০০-৯৯৯ গ্রাম) ইলিশ প্রতি মন দাম ৭৫-৭৬ হাজার টাকা, এক কেজির সাইজের ইলিশ ৮৮ হাজার এবং দেড় কেজির ইলিশ ৯৮ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ছোট আকারের ইলিশ এবং জাটকার বাজার মূল্যের তুলনায় কম দামে বিক্রি হচ্ছে।

মৎস্য ব্যবসায়ী ইয়ার হোসেন জানান, পদ্মা সেতু চালুর আগে বরিশালে প্রতিদিন ৩-৪ হাজার মণ ইলিশ আসত যা এখন অনেকটাই কমে গেছে। তবে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় সাম্প্রতিক ঝামেলার কারণে নদী ও সাগরের মাছের বেশ কিছু ট্রলার এই সময়ে বরিশালে এসেছে, যা সরবরাহ বাড়িয়েছে।

বরিশাল শহীদ জিয়া মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের মৎস ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি জহির সিকদার জানিয়েছেন, রোববার আড়তে তিনশ মনের বেশি ইলিশ এসেছে, যা চলতি বছরের সর্বোচ্চ। তবে সরবরাহ হওয়া ইলিশের প্রায় আড়াইশ মণই জাটকা। আগামী ২৫ জুন পূর্ণিমার সময় মাছ ধরার পরিমাণ আরও বাড়বে বলে তিনি আশার কথা জানান।

খুচরা বাজারে যদিও সরবরাহ বাড়লেও তার প্রভাব দাম কমানোর ক্ষেত্রে কম দেখা গেছে। ব্যবসায়ীরা সংকটের অজুহাত দেখিয়ে ইলিশ বাড়তি দামে বিক্রি করছেন। ৭০০ গ্রাম থেকে এক কেজি সাইজের ইলিশ পাইকারি দামের চেয়ে কমপক্ষে ৩০০-৫০০ টাকা বেশি বিক্রি হচ্ছে। জাটকা ইলিশের দামও বাজারে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।

বরিশাল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রিপণ কান্তি ঘোষ বলেন, একসময় বরিশালের পোর্ট রোড আড়ত বহুল আলোচিত এবং জমজমাট ছিল, যেখানে দক্ষিণাঞ্চলের নদী ও সাগরের ইলিশ আসত। এখন যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির কারণে ইলিশ পটুয়াখালী এবং চাঁদপুরের বিভিন্ন আড়তে যাচ্ছে। মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান সফল হয়েছে, যার সুফল ধীরে ধীরে আসবে। বর্তমানে বড় সাইজের ইলিশ ধরা পড়া শুরু করেছে যা ভালো লক্ষণ। বৃষ্টিপাত ও বিরূপ আবহাওয়ার কারণে ইলিশ ধরা পড়ছে বেশি, ভবিষ্যতে আরও ভালো সংগ্রহ ও দাম কমার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।