প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করে বলেছেন, দেশের শাসনব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে এবং জবাবদিহিমূলক একটি রাষ্ট্র গড়ে তুলতেই এই পদক্ষেপ নেয়া হবে। তিনি আশ্বাস দেন যে প্রতিটি স্তরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কোনো আপস হবে না এবং অপরাধীর দলীয় পরিচয়কে কোনোই ছাড় দেওয়া হবে না।
শুক্রবার (৬ মার্চ) সন্ধ্যায় ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সম্মানে আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে প্রধানমন্ত্রীর এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সরকারের করণীয় এবং দুর্নীতিমুক্তিকরণে নেওয়া হবে এমন কার্যকর ও দৃঢ় পদক্ষেপ সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের সব স্তরে দুর্নীতি নির্মূল করা তাদের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। শুধু কড়া আইন প্রণয়ন করেই কাজ হবে না—প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের মাধ্যমে দুর্নীতির শিকড় কাটা হবে। তিনি বলেন, ‘‘দলীয় পরিচয় দেখে কোনো ছাড় থাকবে না; যেখানে অপরাধ, সেখানে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’’
আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থী—পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান—এর প্রতি সমর্থন জানাতে ঢাকায় নিযুক্ত কূটনীতিকদের কাছে তিনি অনুরোধ জানান।
বিদেশি কূটনীতিকদের কাছে মানবাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সহনশীলতা বজায় রাখার ব্যাপারেও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে জোরালো আশ্বস্তকরণ দেওয়া হয়। তিনি জানান, তার সরকার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে এসব বিষয়ের সুরক্ষা নিশ্চিত করছে।
ইফতারে বাংলাদেশের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত প্রণয় ভার্মা ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার ও কূটনৈতিক মিশনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর টেবিলে তার ডান পাশে ছিলেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং বাম পাশে কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।
প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণাকে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সরকারের দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ ও জবাবদিহিতা বিষয়ক সংকল্প হিসেবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে।








