ঢাকা | শনিবার | ২৫শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১১ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

দৌলতদিয়ায় নিখোঁজ রেজাউলের খোঁজে ৪ দিনেও কোনো সূত্র 찾েনি পুলিশ

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে নিখোঁজ হয়েছেন যুবক রেজাউল শিকদার (৩৫)। এখনো পর্যন্ত তাঁর সন্ধান পাওয়া যায়নি, চার দিন পার হলেও কোনো অগ্রগতি হয়নি। রেজাউল দৌলতদিয়া ইউনিয়নের বাহিরচর শাহাদাৎ মেম্বার পাড়ার মৃত মহিউদ্দিন শিকদারের ছেলে। তার বিরুদ্ধে গোয়ালন্দ থানায় চারটি মাদক, দুইটি ছিনতাই এবং একটি জুয়ার মামলা রয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টার দিকে দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটে পন্টুনের উপর থেকে রেজাউল ফেরির একটি যাত্রীর মোবাইল ও টাকা ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে। ওই যাত্রী তাকে ধরে ফেললে, ধস্তাধস্তির সময় দুজনই নদীতে পড়ে যান। যাত্রী সাঁতরে উপরে উঠলেও রেজাউল পানিতে ডুবে যায়।

রেজাউলের পরিবারের দাবি, তাকে নদীতে ফেলে দিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। বড় ভাই মোস্তফা শিকদার ও রবিউল শিকদার অভিযোগ করেন, প্রতিবেশী আনু খা, আইয়ুব খা, ফারুক খা, তোতা খা, সোহেল খা ও ইউনুস খার সঙ্গে জমিজমা নিয়ে দ্বন্দ্ব রয়েছে। এই দ্বন্দ্বের জের ধরে, তারা পরিকল্পনা করে রেজাউলকে ফেরির পন্টুন থেকে পানিতে ফেলে দিয়ে তার মাথায় ইটের আঘাত করে ডুবিয়ে দেয়। তাঁরা এটিকে পরিকল্পিত হত্যা বলে দাবি করেছেন।

অপরদিকে, আনু খা ও ছোট ভাই ফারুক খা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তারা এলাকায় সুনাম ছড়ানো ব্যবসায়ী, অন্যায়-অপরাধের সঙ্গে জড়িত নন। তারা দাবি করেন, রেজাউল একজন চিহ্নিত মাদকসেবী, ছিনতাইকারী এবং ফেরিতে ছিনতাই ও জুয়ার চক্রের সদস্য। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, রেজাউল মোবাইল ও টাকা ছিনতাই করে পালানোর সময় পন্টুন থেকে নদীতে পড়ে যায়—তবে নেশাগ্রস্ত থাকার কারণে উপরে উঠতে পারেনি। তিনি আরও বলেন, রেজাউলকে উদ্ধার করতে কেউ এগিয়ে আসেনি, কারণ তার নেশার জন্য তারা জানত। তাদের বিরুদ্ধে জমিজমা সংক্রান্ত আদালতের মামলা ছিলো বলে জানান। কিছুদিন আগেও, তারা পুলিশে অস্ত্রসহ হামলার অভিযোগ করেছে। এসবের সঙ্গে এই ঘটনা জড়িত নয় বলে তারা দাবি করছেন।

দৌলতদিয়া নৌ-পুলিশের ইনচার্জ ত্রিনাথ সাহা জানান, নিখোঁজ যুবক রেজাউলকে উদ্ধার করতে ফায়ার সার্ভিসের সাথে পুলিশও অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। পুলিশের রেকর্ড অনুযায়ী, রেজাউলের বিরুদ্ধে চারটি মাদক, দুইটি ছিনতাই এবং একটি জুয়ার মামলা রয়েছে। এ্যালাও জানানো হয়, ধস্তাধস্তির সময় নদীতে পড়ে যাওয়া ঘটনার ব্যাপারে তদন্ত চলছে এবং প্রকৃত কারণ জানাতে কাজ করছে পুলিশ।