বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে এক নবীনের ছোঁয়া এলো। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের মাত্র ১৩ কর্মদিবসে, দেশের সুপ্রিম আইনপ্রণেতারা একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস করেছেন, যার সংখ্যা এখন পর্যন্ত ৯১টি। এই অভাবনীয় সাফল্য দেশের ভাবমূর্তি বাড়াচ্ছে এবং গণতন্ত্রের কার্যক্ষমতা প্রমাণ করছে।
বৃহস্পতিবার, ১০ এপ্রিল, সংসদে পাস হয়েছে ২৪টি গুরুত্বপূর্ণ বিল, যার মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অনেক অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তর করার জন্য বিভিন্ন বিল রয়েছে। এর আগে, বুধবারের দিন অর্থাৎ ৯ এপ্রিল, ৩১টি বিল পাস হয়েছিল। এই ধারাবাহিক কার্যক্রমে নানা ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি লক্ষ্য করা গেছে।
পাস হওয়া বিলগুলোর মধ্যে নজর ছিল বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের উপর। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের বিভিন্ন নগর উন্নয়ন সংক্রান্ত বিল, যেমন নারায়ণগঞ্জ, বরিশাল, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা ও রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বিল পাস করেছেন। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির (সংশোধন) বিল, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত কিছু বিল এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা ও সাইবার সুরক্ষা বিল পাসের উদ্যোগ নেন।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিভিন্ন অর্থসংক্রান্ত বিল, যেমন ব্যাংক রেজল্যুশন, মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক, গ্রামীণ ব্যাংক সংশোধন ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশোধনী বিল পাসের জন্য প্রস্তাব উত্থাপন করেন, যা সর্বসম্মতিপূর্ণভাবে পাস হয়। আর কাঠামো সমৃদ্ধ করেছে বিভিন্ন উন্নয়ন খাতের কাজ।
বিটকয়েন, স্মৃতি ও উন্নয়ন সম্পর্কিত বিলগুলোও যথারীতি পাস হয়ে গেছে। এছাড়া, জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল ও মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিলের উপর সংসদে বিতর্ক হয়েছে। সংশোধনীর প্রস্তাব ও বিরোধী দলের ওয়াকআউটের ঘটনা ঘটে, তবে শেষ পর্যন্ত সব বিলই প্রস্তাব অনুযায়ী পাস হয়।
এছাড়াও, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিলও কণ্ঠভোটে পাস হয়, যা জনস্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
সাধারণভাবে, এই ধারা দেশের আইনপ্রণেতাদের কার্যক্ষমতা ও গণমাধ্যমের স্বচ্ছতার প্রমাণ দেয়, যা দেশের উন্নয়নে নতুন প্রত্যাশা সৃষ্টি করছে।









