ঢাকা | রবিবার | ৩রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৬ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

‘নতুন বাংলাদেশ’ গঠনে এনসিপির ঘোষণা ২৪ দফা ইশতেহার

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)‘নতুন বাংলাদেশ’ গঠনের লক্ষ্যে ২৪ দফা ইশতেহার ঘোষণা করেছে। গতকাল রোববার বিকালে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এ ইশতেহার পাঠ করেন।

নাহিদ ইসলাম স্মরণ করিয়ে দেন, গত বছর এই দিনে এই শহীদ মিনার থেকে তারা ফ্যাসিবাদ ব্যবস্থার বিলোপের এক ঐতিহাসিক ঘোষণা দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘‘সেই ঘোষণা কোনো ব্যক্তি, দল বা সংগঠনের পক্ষ থেকে নয়; এটি ছিল বাংলাদেশের জনগণ, ছাত্র-জনতা এবং শহীদ ভাই-বোনেদের এক ঐতিহাসিক দাবি।’’

তিনি আরও জানান, তখন তারা দায় ও দরদের রাজনীতির বিকল্প হিসেবে সাম্যবাদ, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। একটি রাজনৈতিক বন্দোবস্ত নির্মাণের প্রত্যাশা প্রকাশ করা হয়েছিল, যাতে আর কখনো স্বৈরতন্ত্রের পুনরাগমন হবে না।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘‘জুলাই পদযাত্রায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের কথা বলেছি, কিন্তু ফ্যাসিবাদী বন্দোবস্ত বিলুপ্ত করতে পারিনি।’’

এরপর তিনি এনসিপির ২৪ দফা ইশতেহার ঘোষণা করেন, যেখানে রয়েছে— নতুন সংবিধান ও সেকেন্ড রিপাবলিক, জুলাই অভ্যুত্থানের স্বীকৃতি ও বিচার, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও রাষ্ট্রীয় সংস্কার, ন্যায়বিচার ও আইন সংস্কার, সেবামুখী প্রশাসন ও দুর্নীতি দমন, জনবান্ধব আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গ্রামের পার্লামেন্ট ও স্থানীয় সরকার, স্বাধীন গণমাধ্যম ও শক্তিশালী নাগরিক সমাজ, সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষানীতি ও জাতিগঠন, গবেষণা-উদ্ভাবন ও তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম-সম্প্রদায় ও জাতিসত্তার মর্যাদা, নারীর নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়ন, মানবকেন্দ্রিক অর্থনীতি, তরুণ কর্মসংস্থান, বহুমুখী বাণিজ্য ও শিল্পায়ন, টেকসই কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা, শ্রমিক-কৃষকের অধিকার, জাতীয় সম্পদ ব্যবস্থাপনা, নগরায়ন ও পরিবহন, জলবায়ু সহনশীলতা, প্রবাসী বাংলাদেশিদের মর্যাদা, বাংলাদেশপন্থি পররাষ্ট্রনীতি এবং জাতীয় প্রতিরক্ষা কৌশল।

শুধু ইশতেহার ঘোষণা করেই থেমে থাকেননি নাহিদ ইসলাম, তিনি আরও বলেন, ‘‘এক বছর আগে স্বৈরাচার থেকে দেশকে মুক্ত করার শপথ নিয়েছিলাম। সেই আহ্বানে আপনারা সাড়া দিয়ে ফ্যাসিবাদী শাসন পরাজিত করেছেন। আজ আবারও অনুরোধ করছি, আসুন আমরা সবাই মিলে ‘সেকেন্ড রিপাবলিক’ প্রতিষ্ঠা করে ২৪ দফার মাধ্যমে সকল নাগরিকের স্বপ্নের নতুন বাংলাদেশ গড়ি।’’