ঢাকা | শনিবার | ৪ঠা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৯শে মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

নতুন ভিসা নীতিতে অনুমোদন দিল সরকার

দেশে এবং বিদেশে বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে ভিসা প্রক্রিয়া আরও সহজ করার জন্য সরকার নতুন ভিসা নীতিমালা অনুমোদন দিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে, যেখানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রস্তাবটি উপস্থাপন করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বৈঠক শেষে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সামনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এ তথ্য দেন। তিনি জানান, এই নতুন নীতিমালা আরও শক্তিশালী ও কার্যকর बनाने জন্য অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, আগে ভিসা দেওয়ার পদ্ধতি ছিল পারস্পরিক পাওনার ভিত্তিতে। অর্থাৎ, কোন দেশ যতটা ভিসা দেবে, আমরা ততটাই দেব। সময়, মাস বা বছর ভিত্তিক ভিসাও দেওয়া হতো। তবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেখা গেছে, কিছু ক্ষেত্রে আমাদের বেশি ভিসা দরকার। বিশেষ করে যারা বিনিয়োগের জন্য আসবেন, তারা যদি প্রস্তাব নিয়ে আসে, তাহলে এ দেশে তাদের বিনিয়োগের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে। এই কারণেই এই নতুন নীতির মাধ্যমে আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন দৃষ্টি সৃষ্টি করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ভিসা নীতিটিকে সহজতর করার জন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং এটি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই চূড়ান্তভাবে কার্যকরী হয়ে গেছে। তবে শেষ পর্যন্ত অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিরাপত্তা বিষয়সমূহ দেখবে, পর্যটন অধিদপ্তর থাকবে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থাকছে এবং কোনও অন্য ক্ষেত্রের আগ্রহ থাকলে তারা এই নীতিটিকে আরও সমৃদ্ধ করতে সহায়তা করবে।

নতুন ভিসা নীতিমালার মাধ্যমে বিদেশিদের জন্য বাংলাদেশে আগমন ও প্রস্থান প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও সহজ করে তোলার লক্ষ্য রয়েছে। এতে করে বিদেশি বিনিয়োগ, ব্যবসা ও দক্ষ মানবসম্পদ আকৃষ্ট করা সহজ হবে। পাশাপাশি পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতকে উৎসাহিত করা, প্রযুক্তি ও জ্ঞান স্থানান্তর নিশ্চিত করা, জাতীয় নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করা এবং আন্তঃরাষ্ট্রীয় ভ্রমণ ব্যবস্থাপনাকে আরও শক্তিশালী করার উদ্দেশ্য রয়েছে। এটি ২০০৬ সালে গৃহীত ভিসা নীতিমালার পরিবর্তন করে নতুন নীতিমালা প্রণয়নের অংশ। এই নতুন নীতির খসড়ার পরিমার্জনের জন্য একটি মন্ত্রিসভা-কমিটি গঠন করা হয়েছে, যেখানে অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে এই কমিটি কাজ করবে এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ ক্ষেত্রে সহায়তা প্রদান করবে।