ঢাকা | শুক্রবার | ২৬শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১১ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

নদীর উন্নয়নে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর অঙ্গীকার

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে চীনের পানিসম্পদমন্ত্রী লি গোওইং-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভার্চুয়াল এই বৈঠকটি বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ে রাষ্ট্রীয় দিওইউতাই অতিথি ভবনে অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান আলোচনার বিষয় ছিল তিস্তা নদীর ব্যবস্থাপনা এবং বাংলাদেশে নদী সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রকল্পে চীনের কারিগরি ও গবেষণাভিত্তিক সহায়তা বাড়ানোর ওপর। উভয় পক্ষ এই বিষয়গুলোতে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছেন, যা বাংলাদেশের নদী ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বৈঠকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বন্যার ঝুঁকি মোকাবেলায় এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সচেষ্ট। তিনি দেশের নদী খনন কর্মসূচির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বলেন, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে নদীর জলস্বাস্থ্য ও নদীভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের উন্নতি হবে। বিশেষ নজর দেন তিস্তা নদীর ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের উপরে, যেখানে চীনের কারিগরি সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি নদীভাঙন রোধ, আধুনিক সেচ ব্যবস্থা ও নৌ-সঙ্গতি উন্নয়নে চীনের প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা গ্রহণের ক্ষেত্রে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

চীনের পানিসম্পদমন্ত্রী লি গোওইং তার সতীর্থের বক্তব্যের প্রতিউত্তরে বাংলাদেশকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ২০০৫ সালে দ্বিপাক্ষিক স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক ও গত বছর চীনের পানি বিশেষজ্ঞদের বাংলাদেশ সফর এই সম্পর্কের গভীরতা ও বাস্তব ভিত্তির দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। মন্ত্রী বাংলাদেশের পানিসম্পদ বিশেষজ্ঞ ও কর্মকর্তাদের চীনে উচ্চতর প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানান, যেন তারা চীনের সফল অভিজ্ঞতাগুলো কাজে লাগাতে পারেন।

বৈঠকের শেষে চীনের পানিসম্পদমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে একটি বিশেষ বই উপহার দেন। এ উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এবং বেশ কয়েকজন উপদেষ্টা। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই বৈঠকের ফলে বাংলাদেশের পানিসম্পদ উন্নয়নে চীনের সঙ্গে সহযোগিতার নতুন দ্বার উন্মোচিত হলো, যা ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে।