ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ৭ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৪শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২০শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

নরওয়ে ও অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্রের সমর্থনে নৌপরিবহন উপদেষ্টার আবেদন

বাংলাদেশ আগামী ২০২৬-২৭ মেয়াদের জন্য আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও) কাউন্সিলের ক্যাটাগরি ‘সি’ সদস্যপদে প্রার্থীতা ঘোষণা করেছে। এই গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে বাংলাদেশের পক্ষে নরওয়ে সহ অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্রের সমর্থন চেয়েছেন নৌপরিবহন ও শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন।

গতকাল, বুধবার, বাংলাদেশে নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হকোন অ্যারাল্ড গুলব্র্যান্ডসেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে এসে উপদেষ্টার সাথে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তিনি বাংলাদেশের প্রার্থিতার পরিপ্রেক্ষিতে তাদের সমর্থন কামনা করেন।

উপদেষ্টা ড. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মেরিটাইম দেশ। এখানে একটি গভীর সমুদ্র বন্দরসহ মোট চারটি সমুদ্র বন্দর রয়েছে। এছাড়াও, যেহেতু আমাদের দেশ নদীমাতৃক, তাই প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ নদী ও মেরিটাইম খাতের ওপর নির্ভরশীল। বর্তমানে তিনটি বড় সমুদ্র বন্দর চালু রয়েছে, এবং মাতারবাড়িতে নতুন একটি গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণাধীন। বাংলাদেশে মোট চুয়ান্নটি প্রধান নদীবন্দর এবং দেশের অভ্যন্তরীণ নৌপথের দৈর্ঘ্য ১০ হাজার কিলোমিটারের ওপর।

দেশের দক্ষিণে বিশাল বঙ্গোপসাগরের অবস্থান দেশের ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্বকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বৃদ্ধি করেছে। বাংলাদেশের তৈরি জাহাজগুলিও বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। এসব প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ মেরিটাইম খাতকে আরও উন্নত ও আন্তর্জাতিক মঞ্চে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে প্রস্তুত। এজন্য আমরা আইএমও কাউন্সিল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছি।

তিনি বাংলাদেশের সমুদ্র ঐতিহ্য, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে কৌশলগত অবস্থান এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যে ক্রমবর্ধমান ভূমিকা তুলে ধরেন।

উপদেষ্টা জানান, বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে মেরিটাইম খাতের উন্নয়নে আন্তর্জাতিক নৌ-সংস্থা আইএমও-এর সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করা হচ্ছে। প্রতি বছর বাংলাদেশে ৫ হাজারের বেশি জাহাজ, ৯৫টি সমুদ্রগামী ও ২০ হাজারেরও বেশি উপকূলীয় জাহাজ আসে। তিনি দেশের টেকসই সামুদ্রিক উন্নয়নের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন এবং আইএমও’র কার্বনমুক্ত ভবিষ্যৎ লক্ষ্যের প্রতি বাংলাদেশের দৃঢ় সমর্থন উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, জাহাজ পুনর্ব্যবহার খাতে বাংলাদেশ বিশ্বে নেতৃত্ব দিচ্ছে। দেশের ২১ হাজার প্রশিক্ষিত নাবিক, যার মধ্যে ১২০ জন নারী রয়েছে, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, নাবিক কল্যাণ এবং লিঙ্গভিত্তিক অন্তর্ভুক্তিতে বড় ভূমিকা পালন করছে। বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জাহাজ শিল্পে নরওয়ের বিনিয়োগের আহ্বানও জানান।

নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হকোন অ্যারাল্ড গুলব্র্যান্ডসেন বলেন, দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক, উন্নয়ন সহযোগিতা ও বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। নরওয়ে বাংলাদেশের জাহাজ নির্মাণ ও পুনর্ব্যবহার খাতে সহযোগিতা করছে এবং নরওয়ের কোম্পানিগুলো অন্যান্য খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

তিনি বাংলাদেশের পরিবেশ সুরক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, আইএমও কনভেনশন বাস্তবায়ন, ডিজিটালাইজেশন এবং সমুদ্র দূষণ রোধে বাংলাদেশের সক্রিয় ভূমিকার প্রশংসা করেন। বিশেষ করে বাংলাদেশের জাহাজ ভাঙ্গা শিল্পে পরিবেশের প্রতি গুরুত্ব আরোপ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, এ খাতেও নরওয়ে কারিগরি সহায়তা ও বিনিয়োগ দিতে প্রস্তুত।

উপদেষ্টা আরও যৌক্তিক প্রস্তাব দেন, মাতারবাড়ি ও মোংলা গভীর সমুদ্র বন্দরের ডকইয়ার্ড নির্মাণে নরওয়ের কারিগরি এবং আর্থিক সহায়তা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।