ঢাকা | মঙ্গলবার | ৩০শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৫ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

নরসিংদী ও ফরিদপুরে নিখোঁজ দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার

নরসিংদী ও ফরিদপুরে পৃথক ঘটনায় নিখোঁজ হওয়া দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রায়পুরায় চার দিন ধরে নিখোঁজ থাকা সপ্তবছরী তাসকিয়ার অর্ধগলিত মরদেহ পাওয়া গেলো। অপরদিকে ফরিদপুরের সদরপুরে মেলায় নিখোঁজ হওয়া আট বছর বয়সি শাহাদাত বেপারীর লাশ তিন দিন পর আড়িয়াল খাঁ নদের তীরে এক কাশবন থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

রায়পুরায় ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, তাসকিয়া (৭) পাড়াতলী ইউনিয়নের মধ্যনগর গ্রামের মামুন মিয়ার মেয়ে। পরিবার জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে সে নিখোঁজ হয়। অভিভাবকরাও কয়েকদিন ধরে খোঁজাখুঁজি করেও খোঁজ পায়নি এবং রায়পুরা থানায় একটি জিডি করেন।

সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে পাড়াতলী ইউনিয়নের বালুয়াকান্দি চরের একটি মাঠে স্থানীয়রা একটি অর্ধগলিত মরদেহ দেখতে পেয়ে পরিবারের কাছে খবর দেয়। পরিবার এসে শিশুটিকে শনাক্ত করলে পুলিশকে জানানো হয়। রায়পুরা থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছে।

রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান বলেন, আমরা ঘটনাস্থল থেকে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছি এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। দ্রুতই শিশুটির মৃত্যু রহস্য উদঘাটন করার আশা করছি।

ফরিদপুরে শাহাদাত বেপারী (৮) চন্দ্রপাড়া গ্রামের রশিদ বেপারীর ছেলে। পরিবার ও পুলিশ সূত্র জানায়, গত শুক্রবার মহররম উপলক্ষে চন্দ্রপাড়া দরবার সংলগ্ন ট্রলারঘাটে আয়োজিত মেলায় পরিবারের সঙ্গে ঘুরতে গিয়ে সে নিখোঁজ হয়। পরিবারের তল্লাশি, মাইকিং ও বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পরেও কোনো সন্ধান মেলেনি।

সোমবার (২৯ জুন) দুপুর দেড়টার দিকে সদরপুর উপজেলার চর নাছিরপুর ইউনিয়নের আড়িয়াল খাঁ নদের তীরের একটি কাশবন থেকে শাহাদাতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা এসে লাশ শনাক্ত করেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছে।

ঘটনার খোঁজে স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে মেলায় থাকা দোলনার মালিকসহ পাঁচ কর্মচারীকে আটক করে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। পরে পুলিশ এসে তাদের নিজেদের হেফাজতে নেয় এবং বর্তমানে আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। অভিযোগ রয়েছে, হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহভাজন এক দোলনা কর্মী ঘটনার তিন দিন পর শাহাদাতের বোন রওশনারার মোবাইল ফোনে কল করে লাশের অবস্থান জানিয়ে পালিয়ে যায়, এবং সেই ফোনকলের সূত্রে লাশের অবস্থান ধরে পরিবার কাশবন পর্যন্ত পৌঁছায়।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভাঙ্গা সার্কেল) মো. রেজওয়ান দীপু ও সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুল আল মামুন শাহ। ওসি মিডিয়ার কাছে বলেছেন, তদন্তের স্বার্থে সব দিক গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করা যাবে এবং পলাতক মূল সন্দেহভাজনকে গ্রেফতারের চেষ্টা জোরদারে রাখা হয়েছে।

উভয় ঘটনায় স্থানীয় মানুষজনের মধ্যে শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। পুলিশ উভয় কেসেই তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ময়নাতদন্তের ফলাফল এলে প্রকৃত ঘটনার কারণ ও দায়ীদের সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।