নিবন্ধনের শেষ দিনে শুক্রবার সকাল থেকেই নির্বাচন কমিশনে একের পর এক রাজনৈতিক দল তাদের নিবন্ধনের আবেদনপত্র জমা দিতে শুরু করেছে। এদিন এখন পর্যন্ত অন্তত দুই ডজন রাজনৈতিক দল কমিশনে এসে সরাসরি আবেদনপত্র জমা দিয়েছে। রাজনৈতিক নেতারা সরাসরি নির্বাচন ভবনে এসে দলীয় নিবন্ধনের জন্য আবেদন জমা দেওয়ার মাধ্যমে প্রক্রিয়াটিকে আরও গতিশীল করেছেন।
এই মুহূর্তে আবেদন জমা দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), জনতার পার্টি বাংলাদেশ (জেপিবি), গণদল, বাংলাদেশ জনজোট পার্টি (বাজপা), বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি (বিআরপি), বাংলাদেশ সমতা পার্টি, বাংলাদেশ ফরায়েজি আন্দোলন, বাংলাদেশ সিটিজেন পার্টি, ইসলামী ঐক্য জোট, নতুন বাংলাদেশ পার্টি (এনবিপি), বাংলাদেশ জাগ্রত জনতা পার্টি, বাংলাদেশ গণ বিপ্লবী পার্টি, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ভাসানী ন্যাপ), বাংলাদেশ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ফেডারেশন, জনতার দল, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা জনতা পার্টি, বাংলাদেশ সাম্যবাদী দল (এমএল), বাংলাদেশ নাগরিক পার্টি (বিএনপি), জাতীয় ন্যায়বিচার পার্টি, বাংলাদেশ ডেমোক্রেটিক পার্টি (বিডিপি) এবং ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি)।
জনতার পার্টি বাংলাদেশ (জেপিবি) ‘হাতি’ প্রতীক নিয়ে আবেদন করেছে। জেপিবির মহাসচিব শওকত মাহমুদ জানান, ‘‘আমরা নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছি। যদিও বর্তমানে নিবন্ধন প্রক্রিয়া কঠিন, নির্বাচনী সংস্কার কমিশন বেশ কিছু পরিবর্তনের সুপারিশ করলেও তা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। তবুও আমরা বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী আবেদন করেছি এবং আশা করি দ্রুত নিবন্ধন সম্পন্ন হবে।’’ তিনি আরও বলেন, দলটি নির্বাচন সংস্কারের পক্ষে এবং ভবিষ্যতে আইন সংশোধনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সহযোগিতা করবে।
অপরদিকে, জনতার দল তাদের দলীয় প্রতীক হিসেবে ‘চাবি’ চেয়ে আবেদন জমা দিয়েছে। আহ্বায়ক অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম কামাল ও সদস্য সচিব আজম খান সংবাদমাধ্যমকে জানান, ‘‘আমরা নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় সব শর্ত পূরণ করেছি এবং জেলা ও উপজেলা কমিটি গঠন সম্পন্ন হয়েছে। এখন সিদ্ধান্ত কমিশনের হাতে।’’
এদিকে, বিকেলে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তাদের আবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচন কমিশন ১০ মার্চ নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের জন্য আবেদন আহ্বান করে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত সময় দেয়। এরপর সময়সীমা বাড়িয়ে ২২ জুন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ৬৫টি দল আবেদন করেছে।
নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে দলগুলো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজস্ব প্রতীক নিয়ে অংশগ্রহণ করতে পারবে। নির্বাচন কমিশনের তালিকাভুক্ত বর্তমানে মোট ৫০টি নিবন্ধিত দল রয়েছে। তবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নিবন্ধন বর্তমানে স্থগিত রয়েছে এবং জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন আদালতের নির্দেশনায় পুনরুদ্ধারের পথে।
নিবন্ধনের এই প্রক্রিয়াটি ১৯৭২ সালের ৯০(ক) ধারার রাষ্ট্রপতির আদেশ অনুযায়ী সম্পন্ন হয়, যা দেশের রাজনৈতিক জীবনে নতুন দলগুলোর গুরুত্ব বৃদ্ধি করতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।









