ঢাকা | শনিবার | ২রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৫ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

নিবন্ধনের শেষ দিনে নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশনে রাজনৈতিক দলগুলোর ছুটোছুটি

নিবন্ধনের শেষ দিনে নির্বাচন কমিশনে রাজনৈতিক দলগুলোর ভিড় লক্ষণীয় রূপ নিয়েছে। রবিবার (২২ জুন) সকাল থেকে অন্তত দুই ডজনের বেশি রাজনৈতিক দল নিজ নিজ প্রতিনিধিদের নিয়ে সরাসরি নির্বাচন ভবনে এসে নিবন্ধনের আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন। এই পদক্ষেপ আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে নিজস্ব প্রতীকের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এ পর্যন্ত আবেদন জমা দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), জনতার পার্টি বাংলাদেশ (জেপিবি), গণদল, বাংলাদেশ জনজোট পার্টি (বাজপা), বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি (বিআরপি), বাংলাদেশ সমতা পার্টি, বাংলাদেশ ফরায়েজি আন্দোলন, বাংলাদেশ সিটিজেন পার্টি, ইসলামী ঐক্য জোট, নতুন বাংলাদেশ পার্টি (এনবিপি), বাংলাদেশ জাগ্রত জনতা পার্টি, বাংলাদেশ গণ বিপ্লবী পার্টি, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ভাসানী ন্যাপ), বাংলাদেশ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ফেডারেশন, জনতার দল, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা জনতা পার্টি, বাংলাদেশ সাম্যবাদী দল (এমএল), বাংলাদেশ নাগরিক পার্টি (বিএনপি), জাতীয় ন্যায়বিচার পার্টি, বাংলাদেশ ডেমোক্রেটিক পার্টি (বিডিপি) এবং ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি)।

জনতার পার্টি বাংলাদেশের মহাসচিব শওকত মাহমুদ জানান, দলীয় প্রতীক হিসেবে তারা ‘হাতি’ চেয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা বর্তমান নিবন্ধন প্রক্রিয়া কঠিন হলেও নির্বাচন সংস্কার কমিশনের সুপারিশকৃত পরিবর্তনগুলো এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। তবুও আমরা প্রচলিত নিয়ম মোতাবেক এই আবেদনে এগিয়েছি এবং নিবন্ধনের বিষয়ে আশাবাদী।” তিনি আরও জানান, দলটি নির্বাচন সংস্কারের পক্ষে এবং ভবিষ্যতে আইন পরিবর্তনে কমিশনের সঙ্গে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

অপরদিকে, জনতার দল ‘চাবি’ প্রতীক নিয়ে নিবন্ধনের আবেদন করেছে। দলের আহ্বায়ক অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম কামাল ও সদস্যসচিব আজম খান নিজবশেই নির্বাচন ভবনে গিয়ে আবেদন জমা দেন। শামীম কামাল সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা নিবন্ধনের জন্য সব শর্ত পূরণ করেছি এবং জেলা-উপজেলা পর্যায়ে কমিটি গঠন করেছি। এখন পদ্ধতির সিদ্ধান্ত কমিশনের হাতে।”

এছাড়া বিকেলে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তাদের আবেদন জমা দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে। নির্বাচন কমিশন ১০ মার্চ থেকে নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের জন্য আবেদন আহ্বান করে যা পরে ২০ এপ্রিল থেকে ২২ জুন পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। প্রথম দফায় ৬৫টি দল আবেদন করেছিল।

রাষ্ট্রপতির আদেশ-১৯৭২-এর ধারা ৯০(ক) অনুযায়ী নতুন রাজনৈতিক দলগুলো নিবন্ধিত হয় এবং নিবন্ধিত দলগুলো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রতীক নিয়ে অংশ নিতে সক্ষম হয়। বর্তমানে ইসির তালিকাভুক্ত নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ৫০। তবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নিবন্ধন স্থগিত রয়েছে এবং জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন পুনর্বহাল হওয়ার পথে রয়েছে আদালতের নির্দেশে। নির্বাচনী রাজনৈতিক পরিবেশকে শক্তিশালী করতে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এসব নিবন্ধন প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।