ঢাকা | মঙ্গলবার | ৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৮ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

নির্বাচনের আগে নিশ্চিতভাবে ফ্যাসিস্টদের বিচার হবে: আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেছেন, বিচার নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন উঠলেও আমরা নিশ্চিত করতে পারি যে বিচারব্যবস্থা পূর্ণ গতি নিয়ে কাজ করছে এবং এর ফলাফল স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। তিনি দৃঢ়ভক্তিপূর্ণ ভাষায় উল্লেখ করেন, নির্বাচনের আগে ফ্যাসিস্টদের অপরাধের বিচার অবশ্যম্ভাবী।

তিনি সকলকে আশ্বস্ত করে বলেন, আমাদের বিচারব্যবস্থাকে গ্রহণযোগ্য করে তোলার ব্যাপারে আমরা সবরকম চেষ্টা চালাচ্ছি এবং আপনাদের হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। সরকার যখন দায়িত্ব গ্রহণ করেছিল, তখন থেকেই বিচার, সংস্কার, জুলাইয়ের শহীদদের পুনর্বাসন এবং নির্বাচনের বিষয়গুলো ছিল প্রধান চ্যালেঞ্জ। আজ সেইসব কাজ নিখুঁত সম্পাদনের প্রতি আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

গতকাল, মঙ্গলবার, রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ২০২৪ সালের জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানকে উৎসর্গী তথ্যচিত্র ‘শ্রাবণ বিদ্রোহ (জুলাই আপরাইজিং)’ এর প্রিমিয়ার শোতে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরও জানান যে, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন ফ্যাসিস্ট বিরোধীরা এই বিচার প্রক্রিয়া ব্যাহত করতে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করছে এবং নানা অসত্য তথ্য ছড়িয়ে বিশ্ব এবং দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। তাই আমরা সর্বোচ্চ মানের এবং সুষ্ঠ বিচার করতে চাই।

আইন উপদেষ্টা আশ্বাস দেন, ‘আমার দৃঢ় বিশ্বাস, বাংলাদেশের জুলাই কখনো বেহাত হবে না। হতাশ হওয়ার মতো কিছু নেই।’

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, জুলাই আন্দোলনের স্লোগান ‘কথায় কথায় বাংলা ছাড়; বাংলা কি তোর বাপদাদার’ আমাদের দেশবিরোধীদের বিরুদ্ধে এক শক্তিশালী প্রতীক। জুলাই আন্দোলনের সময় মহাকাব্যিক দৃশ্যগুলো আমাদের স্মৃতিতে অম্লান – ছোট ভাইয়ের লাশ নিয়ে দুই বোনের মিছিল, যেভাবে মারধরিত নেতাদের দেহ ফেলে দেওয়া হয়, এবং সাধারণ মানুষের সাহসিকতা ও সংগ্রাম।

এই অনুষ্ঠানে তথ্য উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলম, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোস্তফা সরোয়ার ফারুকী, শহীদ সাংবাদিক তাহির জামানের মা শামসি আরা জামানসহ নানা সংগঠনের প্রতিনিধিরাও বক্তব্য প্রদান করেন।

তথ্য উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলম বলেন, গত ১৬ বছরে দেশের মানুষের ওপর নানা নিপীড়ন, হত্যা ও গুমের অভিযোগ সত্ত্বেও আমরা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জোরালো প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছি এবং এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বারবার অনুষ্ঠান ও স্মরণ করতে হবে। শহীদদের স্মৃতি ও তাদের পরিবারের ভূমিকা আমাদেরকে আরও শক্তিশালী করবে।

মোস্তফা সরোয়ার ফারুকী বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলন কেবল ৩৬ দিনের নয়, বরং ৫৪ বছরের দীর্ঘ সংগ্রামের পরিণতি। স্বাধীনতা লাভের পরেও কিছু বছর হলেও দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পারিনি। বর্তমানে সাংস্কৃতিকভাবে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে থাকার মাধ্যমে ফ্যাসিবাদ ঠেকানোর চেষ্টা চলছে। তিনি শহীদ পরিবারের সদস্য ও অংশগ্রহণকারীদের অভিব্যক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখেন।

আদিলুর রহমান খান বলেন, ফ্যাসিবাদ প্রতিনিয়ত ফিরে আসার চেষ্টা করবে, তাই তাদের প্রতিহত করা জরুরি। আমরা মানবাধিকার লঙ্ঘন হতে বরাবর বিরত থাকব না এবং ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান রোধ করব।

শহীদ আবু সাঈদের পিতা মো. মকবুল হোসেন দ্রুত বিচার দাবি করে বলেন, তার ছেলে শহীদ হওয়ার এক বছর পূর্ণ হলেও এখনও পর্যন্ত কোনো বিচারের ব্যবস্থা হয়নি।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানার সভাপতিত্বে এবং প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআইবি) মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। তথ্যচিত্রটি পরিচালনা করেছেন আরিফুর রহমান এবং এটি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় থেকে প্রযোজিত।