ঢাকা | শুক্রবার | ১লা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৪ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

নির্বাচনের তফসিলের পরে আসন বণ্টন নিয়ে জোটের সঙ্গে আলোচনা শুরু করবে বিএনপি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করার সঙ্গে সঙ্গেই বিএনপি তার রাজনৈতিক জোটের শরিকদের সঙ্গে আসন বণ্টন সম্পর্কিত আলোচনা শুরু করবে বলে জানিয়েছেন দলের সিনিয়র নেতা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি জানান, বর্তমানে তারা আসন বণ্টনের বিষয়ে আলোচনা শুরু করার পর্যায়ে পৌঁছায়নি, তবে তফসিল ঘোষণা ও নির্বাচন-সংক্রান্ত কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর সেটি শুরু হবে।

এই মন্তব্য তিনি শুক্রবার বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে গণ অধিকার পরিষদের সঙ্গে বিএনপির যোগাযোগ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের জানান। তিনি বলেন, নির্বাচন প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার পরেই আসন বণ্টন বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে এবং তফসিল ঘোষণার পর সবাইদের সঙ্গে সমন্বয় সাধন শুরু হবে।

বৈঠকে খসরু আরও উল্লেখ করেন, লন্ডনে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বৈঠকের ফলাফল নিয়ে গণ অধিকার পরিষদের নেতারা আলোচনা করেছেন। আগামী ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের ঘোষণা নিয়ে উভয় পক্ষই সন্তুষ্ট।

তিনি বলেন, দল দুটির মধ্যে ৩১ দফা সংস্কার এজেন্ডা বাস্তবায়ন, নির্বাচনের আগে প্রস্তুতি নেওয়া এবং আংশিকভাবে আন্দোলনে একাত্মতার মতো বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আন্দোলনের সময় যেমন ঐক্যবদ্ধ ছিলেন, তেমনই আগামী দিনে নির্বাচন, সরকার গঠন ও সংস্কার বাস্তবায়নে সবাই একসঙ্গে কাজ করবে।

জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশনের চলমান বৈঠকের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো যেখানে মিলিত হতে পারবে সেসব বিষয় প্রধান করে সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে। যেসব বিষয়ে একমত হওয়া কঠিন, সেগুলো নিয়ে আলাদা অবস্থান থাকবে। বিএনপির জন্য কিছু বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হবে, অন্য দলের জন্য অন্য কিছু বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সেই পার্থক্য স্বীকার করা উচিত এবং সংস্কারগুলো সেই নিরিখে এগোবে। এ ছাড়া বিভিন্ন বিষয়ে জনগণের সামনে নির্দিষ্ট প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে।

খসরু আরও জানান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নির্বাচনে বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনের বিজয় নিশ্চিত হওয়ার পর তারা সরকারের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছে। তিনি বলেন, ইশরাককে মেয়র ঘোষণা করে বিচার বিভাগ স্পষ্ট সিদ্ধান্ত দিয়েছে এবং নির্বাচন কমিশনও সেটি অনুমোদন করেছে। আইনমতে ইশরাক নেয়া উচিত মেয়র হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করাটা।

তিনি বলেন, বিএনপি এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকার উভয়েই আইনের শাসনে বিশ্বাসী। যদি সত্যিই আইনের শাসন মেনে চলা হয়, তাহলে ইশরাকের শপথ গ্রহণ স্বাভাবিক হবে। এখন তারা সরকারের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করছে।