ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হওয়ার পরেই বিএনপি তার রাজনৈতিক জোটের শরীক দলের সঙ্গে আসন বণ্টন নিয়ে আলোচনা শুরু করবে বলে জানিয়েছেন দলের সিনিয়র নেতা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি জানান, আসন বণ্টন নিয়ে আলোচনা এখনই কোনও পর্যায়ে পৌঁছেনি, এই প্রক্রিয়া শুরু হবে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা ও সম্পর্কিত কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর।
বৃহস্পতিবার বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে বিএনপির যোগাযোগ কমিটি ও গণ অধিকার পরিষদের বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে খসরু এ কথা বলেন। তিনি বলেন, নির্বাচন প্রক্রিয়া officieel শুরু হলে আসন বণ্টন বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে এবং তফসিল ঘোষণার পরই সকল সমমনা দলের সঙ্গে আলোচনা শুরু করা হবে।
গণ অধিকার পরিষদের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে খসরু উল্লেখ করেন, লন্ডনের বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্বাচনের প্রস্তুতি ও গতিসম্পর্কিত বিষয় আলোচনা করেছেন, যা উভয় পক্ষের জন্য সন্তোষজনক। আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে তাঁরা সন্তুষ্ট।
বিএনপি নেতারা ৩১ দফা সংস্কার এজেন্ডা বাস্তবায়নসহ নির্বাচনের প্রস্তুতি ও অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। খসরু বলেন, ‘আগামী দিনে যেমন আন্দোলনের সময় আমরা ঐক্যবদ্ধ ছিলাম, তেমনি নির্বাচনে, সরকার গঠনে এবং ৩১ দফা সংস্কার বাস্তবায়নে আমরা একসাথে এগিয়ে যাব।’
জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশনের চলমান বৈঠকের প্রসঙ্গে তিনি জানান, রাজনৈতিক দলগুলো যেখানে একমত হবে, সেই ভিত্তিতেই সংস্কারগুলো করা হবে। ‘সেই সীমার বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। প্রতিটি দলের নিজস্ব রাজনৈতিক ধারণা ও লক্ষ্য রয়েছে, তাই সব বিষয়ে ঐকমত্যের দরকার নেই। কিছু বিষয় বিএনপির জন্য গুরুত্বপূর্ণ, অন্য বিষয়ে অন্য দলের গুরুত্ব বেশি, এই পার্থক্য থাকবে। সংস্কারগুলো মূলত ঐকমত্যোজ্জ্বল দিকগুলো তুলে ধরবে এবং অন্য বিষয়গুলো নির্বাচনে জনগণের সামনে উপস্থাপন করা হবে।’
খসরু আরও বলেন, বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিজয়ী ঘোষণা করার পর সরকারের সিদ্ধান্তের জন্য তারা অপেক্ষা করছে। তিনি বলেন, ‘ইশরাককে মেয়র হিসেবে ঘোষণা দিয়ে বিচার বিভাগ স্পষ্ট সিদ্ধান্ত দিয়েছে, নির্বাচন কমিশনও অনুমোদন ও মতামত দিয়েছে, তাই আইনত তার মেয়রপদ গ্রহণ করা উচিত।’
তিনি যোগ করেন, বিএনপি এবং বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার উভয়ই আইনের শাসনে বিশ্বাসী। ‘আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, যদি আইন মানা হয়, তাহলে ইশরাকের মেয়র পদে শপথ গ্রহণ স্বাভাবিক। এখন এই বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছি।’








