ঢাকা | সোমবার | ২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৩ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

নির্বাচনে ভয় পেলে রাজনীতি নয়, এনজিওতে যোগ দিন: আমীর খসরু

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, নির্বাচনে যারা ভয় পান, তাদের রাজনীতিতে থাকাটা উচিত নয়। তারা চাইলে প্রেসার গ্রুপ হিসেবে কাজ করতে পারেন বা এনজিওতে যোগ দিতে পারেন। তিনি বলেন, “রাজনীতি করলে নির্বাচনে অংশ নিতে হবে, নির্বাচন এড়িয়ে গিয়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করা কখনো মানা যায় না।”

রবিবার (২৭ জুলাই) ঢাকার রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ভাসানী জনশক্তি পার্টি ও ভাসানী অনুসারী পরিষদের আয়োজিত ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান’–এর এক বছরের পূর্তি উপলক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

আমীর খসরু উল্লেখ করেন, যেখানে গণ-অভ্যুত্থানের পর নির্বাচন বিলম্বিত হয়েছে, সেখানে বিভাজন, গৃহযুদ্ধ ও রাষ্ট্র ব্যর্থতার নজির পাওয়া যায়। কিন্তু যারা দ্রুত নির্বাচন আয়োজন করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে, তারা রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে উন্নতি করে চলেছে।

জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে তিনি বলেন, এই আন্দোলনে মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু কেউ এটিকে ‘হাইজ্যাক’ করতে পারবে না। তিনি বলেন, ‘এই আন্দোলন নতুন নয়, কারণ অধিকার আদায়ের সংগ্রাম বাংলাদেশের মানুষের রক্তে লেখা আছে।’

বিএনপি নেতা আরও বলেন, ‘৫ আগস্ট শেখ হাসিনা না গেলে আমরা বাড়ি ফিরতাম না, আন্দোলন অব্যাহত থাকত।’ এই আন্দোলনের প্রধান লক্ষ্য ছিল দেশের উপর জনগণের মালিকানা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং তাদের সাংবিধানিক অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া।

যদিও বিএনপি নেতাকর্মীরা সবচেয়ে বেশি নিপীড়ন ভোগ করেছেন, তবুও বিএনপি কখনো এই আন্দোলনের কৃতিত্ব দাবী করেনি বলে তিনি মন্তব্য করেন। আমীর খসরু নিশ্চিত করেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই এই গণ-অভ্যুত্থান সফল হবে।

তিনি বলেন, ‘সব বিষয়ে পূর্ণ ঐকমত্য থাকা আবশ্যক নয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ভিন্নমত ও বিশ্বাস থাকবে, সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু জাতীয় স্বার্থে ঐক্য হওয়া জরুরি। মতপার্থক্য ছাড়া গণতন্ত্র টিকে না। আমরা কোনো একদলীয় শাসনের পক্ষে নই।’

এছাড়া তিনি উল্লেখ করেন, শেখ হাসিনার দেশের বাইরে থাকার পর জনগণের মনোভাব পরিবর্তিত হয়েছে। যেসব নেতা এই পরিবর্তন বুঝতে পারে না, তাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নেই বলেও জানান তিনি।

বিএনপি নেতা বলেন, ‘একটি নির্বাচিত সরকার না থাকায় অনেক পুলিশ ও সরকারি কর্মকর্তারা সঠিক কাজ করতে পারছেন না, আর বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করছেন।’