ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৩ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

নির্বাচিত প্রতিনিধি ছাড়া প্রকৃত সংস্কার অসম্ভব: ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি ছাড়া কোনো বাস্তব এবং সঠিক সংস্কার সম্ভব নয়। তিনি বললেন, একটি যথাযথ গণতান্ত্রিক কাঠামোর মাধ্যমে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত করা আবশ্যক, এটিই প্রকৃত সংস্কারের ভিত্তি।

শুক্রবার (২৫ জুলাই) ‘জুলাই অভ্যুত্থান: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক এক আলোচনাসভায় ফখরুল বলেন, যারা মনে করেন সংস্কার রাতারাতি বা কয়েকটি বৈঠকে বাস্তবায়িত হবে, তারা ভুল ভাবছেন। সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া, যা সময় সাপেক্ষ।

তিনি আরও বলেন, যদি শুধু সরকারের পক্ষ থেকে পুলিশ ব্যবস্থা কাল থেকেই ঘুষ নেওয়া বন্ধ করবে বলে ভাবা হয়, সেটা বাস্তবে সম্ভব নয়। পরিবর্তে এমন একটি কাঠামো গড়ে তুলতে হবে যা ঘুষ গ্রহণকে কঠোরভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।

আলোচনাসভার আয়োজন করে জিয়া পরিষদ, যা গত বছরের গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম বার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত হয়।

দেশের উন্নয়নের পথে প্রধান বাধা হিসেবে ফখরুল উল্লেখ করেন বিদ্যমান আমলাতন্ত্রকে। তিনি বলেন, আমাদের আমলাতন্ত্র এখন নেতিবাচক, যা উন্নয়নের জন্য বিরাট আঘাতস্বরূপ। এটি একটি ইতিবাচক কাঠামোয় রূপান্তরিত করতে হলে সর্বপ্রথম জনগণকে এই প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

ফখরুল আরও বলেন, দেশে সকল রাজনৈতিক দলের উচিত জনগণের কাছে ফিরে যাওয়া, তাদের চাহিদা বুঝে সেই চাহিদাকে রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রতিফলিত করা।

বিএনপি নির্বাচন চেয়ে সমালোচনার মুখে পড়ে থাকলেও, ফখরুল বলেন, ‘আমরা যখন নির্বাচন চাওয়া শুরু করলাম, তখন থেকেই বলা শুরু হলো যে বিএনপি শুধু নির্বাচনই চায়। কিন্তু কেউ কি ভেবে দেখেছে কেন আমরা নির্বাচন চাই?’

তিনি ব্যাখ্যা করেন, নির্বাচনের মাধ্যমে বাস্তব প্রতিনিধিকে নির্বাচন করা সম্ভব হয়। যদি সুষ্ঠু নির্বাচন না হয়, তবে সংসদে প্রকৃত প্রতিনিধির উপস্থিতি অসম্ভব, যার ফলে জনগণের শাসনও প্রতিষ্ঠিত হবে না।

ফখরুল যোগ করেন, ‘দেশ চালানোর জন্য বাড়ি-বাইরে থেকে কিছু মানুষকে ভাড়া করা সম্ভব নয়, এটি বাস্তবতা নয়। আমাদের জনগণের প্রতিনিধিদের নির্বাচিত করে দেশ পরিচালনা করতে হবে।’