আন্তর্জাতিক ওটিটি প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্সে সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে জনপ্রিয় স্পাই থ্রিলার সিনেমা ‘ধুরন্ধর ২: দ্য রিভেঞ্জ’—তবে প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত সংস্করণের তুলনায় এখানে প্রকাশিত আনকাট সংস্করণ দর্শকদের কাছে অনেক বেশি শকিং ও লোমহর্ষক হিসেবে অভিহিত হচ্ছে। পরিচালক আদিত্য ধর নির্মিত এই সংস্করণ ১৪ মে থেকে স্ট্রিমিং শুরু করেছে এবং এর দৈর্ঘ্য প্রায় তিন ঘণ্টা বিয়োগ গড়িয়ে ৩ ঘণ্টা ৫২ মিনিট। সেই দীর্ঘতার সঙ্গে যোগ হয়েছে এমন сц сцিনসমূহ, যা সিবিএফসি কর্তৃক প্রেক্ষাগৃহ সংস্করণে কাটা হয়েছিল, কিন্তু নেটফ্লিক্সের সংস্করণে পুরোপুরি অক্ষুণ্ণ রাখা হয়েছে।
এই আনকাট সংস্করণে গলা কাটা, মাথা থেঁতলে দেওয়া এবং রক্তাক্ত অত্যন্ত নির্মম অ্যাকশন দৃশ্যগুলো কোনো সেন্সর ছাড়াই রয়েছে। বিশেষভাবে নজর কাড়ছে উজাইর বালোচের চরিত্রে আরশাদ পাপ্পুর একটি দৃশ্য যেখানে কাটা মাথা নিয়ে ফুটবল খেলার মতো নিষ্ঠুর মুহূর্ত দেখানো হয়েছে—এ জাতীয় দৃশ্য দর্শকদের মধ্যে তীব্র আলোচনার ঝড় তুলেছে। অনেকে বলছেন যেহেতু কোনো কাটছাঁট করা হয়নি, তাই সিনেমার মূল কণ্ঠস্বর ও নির্মমতা এখানে আরও স্বচ্ছন্দভাবে ও বাস্তবসম্মতভাবে ফুটে উঠেছে।
রণবীর সিং ছাড়াও ছবিতে অর্জুন রামপাল, আর মাধবন এবং সঞ্জয় দত্তের মতো শক্তিশালী অভিনেতারা গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে আছেন। আদিত্য ধর গোয়েন্দা জগতের অন্ধকার দিকগুলো ফুটিয়ে তুলতে যে রুক্ষ ও কঠোর টোন রেখেছেন, তা এই ওটিটি সংস্করণে আরও স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে। সেন্সর বোর্ডের কাঁচি না থাকায় চরিত্রগুলোর সংলাপ, কটুক্তি ও গালিগালাজও অকপটভাবে রাখা হয়েছে, যা অনেক দর্শকের কাছে গল্পের পরিবেশকে বিশ্বাসযোগ্য করছে।
তবে ভারতীয় দর্শকদের জন্য বিষয়টি আপাতত ভিন্ন। আইপি সংক্রান্ত একটি আইনি জটিলতার কারণে ছবিটি ভারতে ওটিটিতে মুক্তি পায়নি। পরিচালক আদিত্য ধর বম্বে হাইকোর্টকে জানিয়েছেন যে, আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত মে মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত ভারতে এটি ডিজিটালভাবে দেখানো সম্ভব নয়। পরবর্তীতে যখন ছবিটি ভারতের স্থানীয় ওটিটি—উল্লেখ্য, জিও-হটস্টারের মতো—প্ল্যাটফর্মে আসবে, সেখানে দর্শকদের কেবল সিবিএফসি অনুমোদিত প্রেক্ষাগৃহ সংস্করণটিই দেখতে হবে বলে জানানো হয়েছে।
সামাজিক মিডিয়ায় ‘ধুরন্ধর ২’-এর এই আনকাট সংস্করণকে নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। এক পক্ষ ছবিটির কড়া নির্মাণশৈলী, ধারালো প্লট ও শক্তিশালী অভিনয়ের প্রশংসা করছে, অন্যদিকে অনেকে অতিরিক্ত সহিংসতা ও গ্রাফিক দৃশ্যের কারণে চরম নৈরাশ্য প্রকাশ করেছেন। বিদেশি বাজারে নেটফ্লিক্সের মাধ্যমে এই সংস্করণ ছবিটির সুনাম ও আলোচনা দুটোই বাড়িয়ে দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, ভারতে যখন ছবিটি ডিজিটালভাবে মুক্তি পাবে—তবে সেখানে কেমন প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হবে এবং এটি কি একইভাবে দর্শক আকর্ষণ করতে পারবে।







