ঢাকা | শনিবার | ২৮শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ৯ই শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি গ্রেপ্তার

নেপালে গত বছরের রক্তক্ষয়ী গণবিক্ষোভ ও সহিংসতায় জড়িত থাকার অভিযোগে শনিবার (২৮ মার্চ) ভোরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখককে গ্রেপতার করেছে পুলিশ। তাঁরা রাজধানী কাঠমাণ্ডুর উপকণ্ঠে নিজেদের বাসভবন থেকে আটক হন।

২০২৫ সালে শুরু হওয়া দুর্নীতিবিরোধী ছাত্র-যুব আন্দোলন দ্রুত বাড়তে থাকে এবং পরবর্তীতে সরকার পতনের উদ্দেশ্যে একটি বৃহৎ আন্দোলনে রূপ নেয়। বিক্ষোভ দমনে পুলিশের গুলিতে কমপক্ষে ৭৭ জন নিহত হয়—এই প্রাণহানিই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চালানো আইনগত পদক্ষেপের মূল ভিত্তি।

সরকার গঠিত তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তখনকার প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখক বিক্ষোভ দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন। প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে তারা গুলি বন্ধ বা নিয়ন্ত্রণের কার্যকর কোনো চেষ্টা করেননি; তাদের অবহেলার কারণে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটেছে। এই অপরাধে তাদের ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের সুপারিশ করা হয়েছে।

র‍্যাপার থেকে রাজনীতিবিদে পরিণত হওয়া জনপ্রিয় নেতা বলেন্দ্র শাহ গত ৫ মার্চের নির্বাচনে জয়লাভের পর শুক্রবার (২৭ মার্চ) নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। শপথগ্রহণের পর মাত্র এক দিনের মধ্যে এই গ্রেপ্তার অভিযান চালানো হলো, যা রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে সর্তক করে তুলেছে।

বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বলেন, ‘‘আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নেই। এটি কারো বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নয়; নিহত ও আহতদের জন্য ন্যায়বিচারের সূচনা মাত্র।’’

ঘটনা এবং তদন্ত সম্পর্কে আরও তথ্য সংগ্রহ ও প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া এখন চলমান রয়েছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান