নোয়াখালীর সদর উপজেলায় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও ছাত্রদলের মধ্যে সংঘর্ষ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিলকে কেন্দ্র করে পুলিশ টানা তৃতীয় দফায় অভিযান চালিয়ে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের আরও ১৮ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে। এসব গ্রেপ্তারের পর মোট ৬৫ জনকে আটক করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম সোমবার (৮ জুন) দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, রোববার (৭ জুন) রাত থেকে সোমবার ভোর পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং আরো অভিযানের মধ্যদিয়ে বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে কাজ চলছে।
ঘটনাগুলি গত শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে শুরু হয়। সদর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের বাঁধেরহাট বাজারের জিরো পয়েন্টে ছাত্রলীগের সাবেক নেতা আশরাফুল করিম (ওরফে বাবু) নেতৃত্বে কয়েকশ’ থেকে হাজার খানেক তরুণ বিক্ষোভ মিছিল করেন। মিছিল চলাকালে তারা সরকারবিরোধী স্লোগান দেন এবং সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে যান চলাচল বন্ধ রাখায় জনজীবনে ভোগান্তি ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এরপর শনিবার (৬ জুন) বিকেলে কালাদরাপ ইউনিয়নে পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। স্থানীয়রা বলছেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি দলের নেতা-কর্মীরা মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে লোকবল জড়ো করে এবং ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়; একমাত্র একটি মোটরসাইকেলও আগুনে পুড়ে যায়। একই দিন রাত আটটার দিকে পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা একত্রিত হয়ে কালাদরাপ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিমের বাড়িতে হামলা চালায়, বাড়ি-দোকান ভাঙচুর করে এবং তার একটি অফিসে আগুন ধরিয়ে দেয়।
বাঁধেরহাটে ঘটে যাওয়া সহিংসতার ঘটনার পর সুধারাম থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়। মামলায় মোট ১১৭ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে ওসি মোহাম্মদ কামরুল জানিয়েছেন। পুলিশ জানায়, ইতোমধ্যে এই মামলায় বিভিন্ন পর্যায়ে অভিযান চালিয়ে মোট ৬৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকি আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত আছে।
ঘটনার পরই জেলা পুলিশের পদস্থ এক কর্মকর্তা—সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলামকে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত (ক্লোজড) করা হয়েছে। পুলিশ প্রশাসন বলেছে, এটি নিয়মিত প্রশাসনিক বদলির অংশ।
স্থানীয়রা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, যদি দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়া না হয় তাতে এলাকায় আরও বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে পারে। কর্তৃপক্ষ বলেছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে এবং নির্বিচ্ছিন্ন অভিযান চলবে যাতে পুনরায় এ ধরনের সহিংসতা নাি ঘটে।







