ঢাকা | শুক্রবার | ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব

সৌদি আরব বাংলাদেশের পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক (মেরিটাইম) খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে। কোল্ড স্টোরেজ, বন্দর ব্যবস্থাপনা এবং লজিস্টিক সাপ্লাই চেইনসহ সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রগুলোতে ঢাকা ও রিয়াদের মধ্যে নতুন অংশীদারিত্বের দিক খোলা হচ্ছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে রাজধানীর বিনিয়োগ ভবনে সৌদি আরবের পরিবহন ও লজিস্টিকস উপমন্ত্রী ড. রুমাইহ মোহাম্মদ আল-রুমাইহ-এর সঙ্গে বাংলাদেশের এক উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের ফলপ্রসূ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগের অগ্রগতি, সম্ভাব্য প্রকল্প ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়েছে।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বৈঠকে নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী। বিডা, পিপিপি কর্তৃপক্ষ এবং বেজা (BEZA)-র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।

আলোচনায় সৌদি উপমন্ত্রী বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য সহজীকরণ এবং বেসরকারি খাতকে উদ্যোগের মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়ার নীতি প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের নীতিগত পরিবেশ সৌদি আরবের নিজ দেশীয় অর্থনৈতিক রূপকল্পের সঙ্গে ভালোভাবে খাপ খায় এবং এ থেকেই দুই দেশের বিনিয়োগ সহযোগিতায় সুযোগ রয়েছে।

ড. রুমাইহ মোহাম্মদ আল-রুমাইহ বলেন, সৌদি আরব নিজেকে একটি বৈশ্বিক লজিস্টিকস হাব হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে এবং তাদের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে বৈশ্বিক বিনিয়োগে সহায়তা করা হচ্ছে। আমরা বাংলাদেশে সৌদি কোম্পানিগুলোর উপস্থিতি বাড়াতে চাই এবং যারা সৌদি আরবে ব্যবসা করতে ইচ্ছুক, তাদেরও আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাচ্ছি।

সফল উদাহরণ হিসেবে তিনি চট্টগ্রামের পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালে রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল (আরএসজিটি)-এর কার্যক্রমের গল্পটি তুলে ধরেন এবং জানান যে ওই টার্মিনালের মানববলের বড় অংশ বাংলাদেশি। এই সফলতার ওপর ভিত্তি করে আরএসজিটি বাংলাদেশের সামুদ্রিক লজিস্টিকস খাতের আধুনিকায়ন, প্রযুক্তি উন্নয়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে আরও বিনিয়োগ করতে আগ্রহী।

বৈঠক শেষে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বৈঠকের অগ্রগতিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, লজিস্টিকস ও সাপ্লাই চেইন নেটওয়ার্কের মতো নির্দিষ্ট খাতে সৌদি আরবের গভীর আগ্রহ আমাদের জাতীয় অগ্রাধিক্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি আরও জানান, আর্থিক সেবা খাতেও সৌদি বিনিয়োগকে আমরা উষ্ণভাবে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত।

আশিক চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগের পরিবেশ ও সম্ভাবনা বুঝাতে ইতিমধ্যে কয়েকটি সৌদি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ শুরু করা হয়েছে, যাতে আলোচনাগুলো দ্রুত বাস্তবে রূপান্তর করা যায়। দুই দেশের প্রতিনিধিরা বলছেন, চলমান অর্থনৈতিক গতিশীলতাকে কাজে লাগিয়ে পারস্পরিক লাভজনক প্রকল্পগুলো দ্রুত এগিয়ে নিলে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।