যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন চীনের তিনটি শীর্ষ করপোরেট প্রতিষ্ঠান—আলিবাবা, বিওওয়াইডি এবং বাইদুকে সামরিক কার্যক্রমের সহায়তাকারী হিসেবে কালো তালিকাভুক্ত করেছে। আল জাজিরার খবর অনুসারে, এই সিদ্ধান্তের ফলে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের ইতোমধ্যে নড়বড়ে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জটিল ও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠার আশঙ্কা আছে।
চীনের ওয়াশিংটন দূতাবাস তালিকাভুক্তিকে ‘বৈষম্যমূলক’ হিসেবে কড়া সমালোচনা করেছে। দূতাবাস দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র নিজের ‘জাতীয় নিরাপত্তার’ ধারণাকে অতিরিক্তভাবে সম্প্রসারিত করছে এবং বিদেশে ব্যবসা করা চীনা কোম্পানিগুলো স্থানীয় আইন-কানুন কঠোরভাবে মেনে চলে। দূতাবাসের মুখপাত্র বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে ভুল নীতির প্রয়োগ বন্ধ করে চীনা কোম্পানিগুলোর জন্য ন্যায্য ও বৈষম্যবিহীন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিক্রিয়ায় ই-কমার্স জায়ান্ট আলিবাবা বলেছে, তাদের তালিকাভুক্তির কোনো যৌক্তিক ভিত্তি নেই। কোম্পানিটির এক মুখপাত্র জানান, আলিবাবা কোনো সামরিক সংস্থা নয় এবং সামরিক-বেসামরিক সমন্বয়ের অংশও নয়; তাদের বিরুদ্ধে ভুলভাবে প্রচার চালালে আইনি পথে প্রতিরোধ করা হবে। বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা বিওওয়াইডি ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বাইদু এই বিষয়ে তাৎক্ষণিক মন্তব্য করেনি।
পেন্টাগনের এই তালিকা প্রথম চালু হয় ২০২১ সালে এবং নিয়মিতভাবে হালনাগাদ করা হয়। এখন পর্যন্ত তালিকায় মোট ১৮৮টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে; ২০২৫ সালে সংখ্যাটি ছিল ১৩৪টি। তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান এবং তাদের নিয়ন্ত্রিত অঙ্গসংস্থাগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত কোনো চুক্তিতে অংশগ্রহণের জন্য বিবেচনা করা হয় না। পেন্টাগন যে সংজ্ঞা ব্যবহার করে, তাতে তারা বুঝায়—যেসব প্রতিষ্ঠান সরাসরি চীনা সামরিক বাহিনীর মালিকানাধীন বা নিয়ন্ত্রিত, অথবা বেইজিংয়ের ‘সামরিক-বেসামরিক সমন্বয়’ নীতির মাধ্যমে বেসামরিক গবেষণা ও প্রতিরক্ষা উদ্ভাবনকে সামরিক কাজে সমন্বিত করতে সহায়তা করে। তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসায়িক কার্যক্রম থাকা আবশ্যক।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পদক্ষেপটি যুক্তরাষ্ট্রের পদ্ধতিগত কৌশলের অংশ, যা মূলত চীনের প্রযুক্তিগত ও সামরিক উৎকর্ষের বিস্তারকে সীমিত করার উদ্দেশ্য রাখে। তবে এর কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক প্রভাব দুইপক্ষেই নতুন উত্তেজনার জন্ম দিতে পারে।








