ঢাকা | বুধবার | ১০ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৭শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৪শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: টেকসই ও উদ্ভাবনী উৎপাদন পদ্ধতি গ্রহণ জরুরি

আজকের প্রতিযোগিতামূলক আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকতে হলে উদ্ভাবনী ও টেকসই উৎপাদন পদ্ধতি গ্রহণের জরুরি আবেদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, বর্তমানে ভোক্তারা আরও সচেতন এবং তারা শুধু পণ্যের গুণমানই নয়, বিক্রির নৈতিকতা, সামাজিক দায়িত্ববোধ এবং পরিবেশের ওপর এর প্রভাবকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন। ফলে, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে আমাদের প্রয়োজন উদ্ভাবনী ও টেকসই উৎপাদন পদ্ধতি।

সোমবার (৮ জুন) রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘বিশ্ব অ্যাক্রেডিটেশন দিবস ২০২৬’ উদযাপন উপলক্ষে ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। তিনি লিখেন, বিশ্ব অ্যাক্রেডিটেশন দিবস আমাদের প্রতিদিনের জীবনে পণ্য ও সেবার মানের নিরাপত্তা, বিশ্বাস এবং গুণগত মানের গুরুত্ব মনে করিয়ে দেয়। আন্তর্জাতিক সংস্থা যেমন আইএএফ (ইন্টারন্যাশনাল অ্যাক্রেডিটেশন ফোরাম) ও আইএলএসি (ইন্টারন্যাশনাল ল্যাবরেটরি অ্যাক্রেডিটেশন কো-অপারেশন) প্রতি বছর ৯ জুন এ দিবসটি পালন করে থাকে। এ বছর দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল ‘উদ্ভাবন, বিশ্বাস ও টেকসই উন্নয়ন: অ্যাক্রেডিটেশনের ক্ষমতা’। প্রধানমন্ত্রীর মতে, আধুনিক বিশ্বে উদ্ভাবন, আস্থা এবং টেকসই উন্নয়ন পরস্পরের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িয়ে রয়েছে এবং এগুলো দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির মূল ভিত্তি। পাশাপাশি শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ড (বিএবি) কৃতিত্বের সঙ্গে এ দিবস উদযাপনে উদ্যোগ নিয়েছে, যা যথাযথ ও সময়োপযোগী।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, অ্যাক্রেডিটেশন মানের স্বীকৃতি দেয় এমন একটি আন্তর্জাতিক পদ্ধতি, যা নির্ধারিত মানদণ্ডের ভিত্তিতে পণ্য ও সেবার গুণগত মান নিশ্চিত করে। এটি কেবল একটি সনদ বা স্বীকৃতি নয়, বরং দেশের শিল্পের জন্য একটি শক্তিশালী হাতিয়ার, যা দেশীয় পণ্য ও পরিষেবাগুলোকে বৈশ্বিক বাজারে আরও গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলছে। এখন পর্যন্ত বিএবি ১৬৮টি সরকারি, বেসরকারি ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানকে অ্যাক্রেডিটেশন সনদ দিয়েছে এবং এই কার্যক্রম বর্তমানে পাঁচটি ক্ষেত্রে পরিচালিত হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করে।

সবশেষে, প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, ‘বিশ্ব অ্যাক্রেডিটেশন দিবস ২০২৬’ দেশের অর্থনৈতিক অবকাঠামোকে আরও সুদৃঢ় করবে এবং উদ্ভাবন ও টেকসই উন্নয়নের ধারাকে ত্বরান্বিত করবে। তিনি এই দিবসের সাফল্য কামনা করেন।