ঢাকা | সোমবার | ৬ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২১শে মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

প্রধানমন্ত্রী: জুলাইয়ের অর্জন সকলের সম্মিলিত সংগ্রামের ফল

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে আগারগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত জনসম্মেলনে বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরিসর শুধু কোনো একক ব্যক্তি বা দলের সফলতা নয়। এটি দেশের সকল গণতন্ত্রপন্থী ও শান্তিপ্রিয় মানুষের এক মিলিত সংগ্রামের ফসল। এই সংগ্রামে যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের উৎসাহ ও ত্যাগের মূল্য খুবই মহান, এবং সরকার এ উপলক্ষে সার্বজনীনভাবে তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছে। সরকার নিশ্চিত করছে যে, আইন অনুযায়ী যেসব অন্যায়কারী বা হত্যাকারী জড়িত, তাদের অবশ্যই বিচার হবে। বিচারের নামে যেনো কারো অন্যায় হয় বা অবিচার না হয়, সে দিকে সতর্ক থাকতে হবে। এ জন্যই জোর দেওয়া হচ্ছে শহীদ ও আহতদের যথাযথ মূল্যায়ন, তাদের সম্মাননার পাশাপাশি যথাযথ পুনর্বাসন ও সহযোগিতা প্রদান নিশ্চিত করার ওপর।

শুক্রবার (৪ জুলাই) দুপুরে বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে শহীদ পরিবারের সদস্য, দলীয় কর্মী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে শহীদদের প্রতি সম্মান জানাতে প্রধানমন্ত্রী স্মৃতি স্মারক তুলে দেন, যা শহীদ মিরাজের বাবা রব মিয়া, শহীদ সেলিমের ভাই উজ্জ্বল হোসেন, আহত আল মিরাজ, যোদ্ধা আমিনুল ইসলাম ঈমনসহ বিভিন্ন শহীদ পরিবারের হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সম্মিলিত ঐক্য ও দৃঢ় মনোবল দিয়েই আমরা এই গণবিস্ফোরণ ও সংগ্রামকে সামনে নিয়ে যাবো। তিনি আরও উজ্জীবিত করে বলেছেন, আমাদের লক্ষ্য হলো শহীদদের আত্মত্যাগ এবং আহত ব্যক্তিদের অবদানকে স্মরণীয় করে রেখে, তাদের পরিবারের জন্য সর্বোচ্চ সম্মান ও সহায়তা বাস্তবায়ন করা। কোনও রাজনৈতিক দল বা অরাজনৈতিক ব্যক্তি বিচ্ছিন্নভাবে এগিয়ে গেলে দেশের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হবে, তাই সকলের জন্য প্রয়োজন ঐক্য।

আত্মবিশ্বাসে তিনি বলেন, এই তরুণ প্রজন্মের সাহস ও মনোবল থাকলে দেশ আরও বিচিত্র অন্ধকার থেকে আলোর পথে এগিয়ে যাবে। তিনি উল্লেখ করেন, শিশু শহীদদের দুঃখজনক পরিস্থিতি, যাদের বয়স ৬৫ প্রজাতির, তাদের পরিণতি এবং তাঁদের উৎসাহের জন্য দেশের জন্য এই ত্যাগের পরিমাণ অমূল্য। রাজনীতিক আঘাত ও নিপীড়নের সময়েও এই সংগ্রামে অনেকের জীবন ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। এখন সময় এসেছে যত্ন নিতে, সম্মান দিতে ও দেশের জন্য অঙ্গীকার দৃঢ় করতে।

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, যারা এই বিপ্লব ও আন্দোলনে জীবন দিয়েছেন, তাঁদের অবদান অব্যাহতভাবে স্মরণে রাখার প্রয়োজন। সেই সঙ্গে জানান, এই আত্মত্যাগের ফল স্বরূপ দেশের স্বপ্নের দক্ষিণে এখন অনেক অন্ধকার কেটেছে, নতুন সূর্য্য ওঠার অপেক্ষায়। তিনি বলেন, আমাদের উচিত তাঁদের এই ত্যাগের মূল্যায়ন করা, তাদের স্বপ্নের দেশ গড়ার কাজে অবদান রাখা। তিনি আশাবাদ প্রকাশ করে বলেন, যতই রাজনৈতিক বিভাজন থাকুক না কেন, সবাই একসাথে হলে দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের জন্য এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।

এ ছাড়াও, সম্মেলনে দেশসেরা শহীদ পরিবার, যুদ্ধাহত ব্যক্তিরা ও সক্রিয় যোদ্ধাদের তাদের ভালোবাসা ও প্রেরণার কথা জানান। জাতির উদ্দেশ্যে শেষ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের লক্ষ্য যেনো এই শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা। এটাই আজকের সংসদের এই মহামিলনের মূল আর্দশ। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমরা শপথ নিচ্ছি, নিজেদের দায়িত্ব নিতে, দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের জন্য একসাথে কাজ করার। সবশেষে, শহীদ পরিবারের সদস্য, যোদ্ধা ও আহত ব্যক্তিদের হাতে স্মৃতি স্মারক তুলে দেওয়া হয়, যা তাদের জন্য এক অনুপম উপহার।