ঢাকা | রবিবার | ৩রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৬ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ পাঠ করলেন

আজ জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত ‘৩৬ জুলাই উদ্‌যাপন’ অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ পাঠ করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে মঞ্চে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামি এবং এনসিপি সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষস্থানীয় নেতা উপস্থিত ছিলেন।

‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য প্রণীত একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল। এই ঘোষণাপত্রে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম, গণতন্ত্রের লড়াই এবং বর্তমান রাজনৈতিক সংকটের পটভূমি তুলে ধরা হয়েছে।

ঘোষণাপত্রের মূল বিষয়বস্তুগুলো হলো:
১. বাংলাদেশি জনগণ ২৩ বছর পাকিস্তানি শাসনের অত্যাচার এবং গণহত্যার বিরুদ্ধে দীর্ঘ সংগ্রামের পর ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা লাভ করে।
২. স্বাধীনতার পর সাম্রাজ্যবাদ ও দুর্নীতিবিরোধী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বিনির্মাণের লক্ষ্যে জনগণ সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছে।
৩. ১৯৭২ সালের সংবিধানের কাঠামোগত দুর্বলতার কারণে বাঙালি জনগণের প্রত্যাশিত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থতা হয়েছে।
৪. ১৯৭৫ সালে সিপাহি-জনতার ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবের মাধ্যমে একদলীয় বাকশাল শাসনের মোকাবেলা এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয়।
৫. ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান পর সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তিত হয়।
৬. তথাকথিত উন্নয়ন আড়ালে সরকারের একচ্ছত্র আধিপত্য ও ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
৭. গত ষোল বছরে সরকারি দুঃশাসন, গুম-খুন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণ এবং সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
৮. বিরোধী মতের নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণের ওপর দমন-পীড়ন বৃদ্ধির ফলে বৃহৎ রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে।
৯. ছাত্র-জনতার অসামান্য সংগ্রামের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন তীব্র হয়েছে এবং গণঅভ্যুত্থানের জেরে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটেছে।
১০. বাংলাদেশের সর্বস্তরের জনগণ সুশাসন, সংবিধান সংস্কার এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।

উক্ত ঘোষণা অনুযায়ী, জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে জাতীয় এবং সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হবে, শহীদদের জাতীয় বীর ঘোষণা করে তাদের পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের বৈধ সুরক্ষা প্রদান করা হবে, এবং আগামী নির্বাচনে একটি জনমৈত্রীপূর্ণ, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই উন্নয়নের প্রত্যাশা অনুযায়ী নতুন গণতান্ত্রিক সরকার গঠন করা হবে।

এই ঘোষণাপত্র থেকে স্পষ্ট যে, বাংলাদেশের জনগণ তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ও স্বাধীনতা রক্ষার জন্য ঐক্যবদ্ধ এবং দেশের উন্নয়ন ও পরিবেশ রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগ নিতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিজয় সুসংহত করতে এই দলিল একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।