ঢাকা | সোমবার | ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১৩ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

ফারুকী জানালেন কেন ‘শনিবার বিকেল’ সিনেমা হলে মুক্তি পায়নি

গুলশানের হোলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার প্রেক্ষাপটে নির্মিত মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর বিতর্কিত সিনেমা ‘শনিবার বিকেল’ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি না পাওয়ার রহস্য নিজেই ভাঙলেন নির্মাতা। দীর্ঘদিন জল্পনা-অনিশ্চয়তার পর গতকাল তিনি ফেসবুকে এক বিস্তারিত পোস্টে পিছনের কারণগুলো ব্যাখ্যা করেছেন।

ফারুকী বলেন, সিনেমাটি আগে থেকেই ওটিটি প্ল্যাটফর্মে (সনি লিভ) মুক্তি পাওয়ায় তা প্রেক্ষাগৃহে দেখানোর বাণিজ্যিক গুরুত্ব হারিয়েছে। সেন্সর বোর্ডের কঠোর নিষেধাজ্ঞার কারণে প্রথম দিকে সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে দেখানোই সম্ভব হয়নি। পরে ওটিটি-তে মুক্তি দিলে অনলাইনেই হাজার হাজার লিংক ছড়িয়ে যায় এবং যাঁরা দেখতে চেয়েছেন তারা ইতোমধ্যে দেখে ফেলেছেন — ফলে নতুন করে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির জন্য ডিস্ট্রিবিউশন ও প্রচারে ব্যয় করে লাভ করা বাস্তবে কঠিন।

নির্মাতা জানান, ২০২৪ সালে রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং তিনি অন্তর্বর্তী সরকারে উপদেষ্টা পরিষদে যুক্ত হওয়ায় ভক্তদের মধ্যে আশা জাগলেও এগুলোই সরাসরি প্রেক্ষাগৃহ মুক্তির কারণ ছিল না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তি কাঁধে দায় চাপিয়ে সমালোচনা করায় তিনি একেই পরিষ্কার করেছেন।

ফারুকী দৃঢ়ভাবে জানান যে, প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি না দেওয়ার পেছনে কোনো ভয় বা রাজনৈতিক চাপ কাজ করেনি। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, অনলাইনে সহজলভ্য একটি সিনেমাকে আবার প্রেক্ষাগৃহে দেখানোর দাবি তোলা ব্যক্তিরা চলচ্চিত্র ব্যবসার বাস্তবতা সম্পর্কে অবগত নন। নিজের উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন জনপ্রিয় সিনেমা ‘ব্যাচেলর’-ও এখন আর প্রেক্ষাগৃহে নতুন ব্যবসা থাকায় মুক্তি পায় না। ডিসট্রিবিউটর বা প্রযোজকরা বাণিজ্যিক ঝুঁকি না নিয়ে এমন সিদ্ধান্ত নেবেন না—এটাই তার যুক্তি।

সোবশেষ ফারুকী তাঁর শিল্পীমাত্রার অবস্থানও স্পষ্ট করেছেন; তিনি নিজের তৈরিকৃত সব সিনেমার মালিকানা রক্ষা করেন এবং কোনো বিশেষ আদর্শের কাছে মাথা নত করেননি। ভবিষ্যতেও ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক উগ্রবাদের বিরুদ্ধে চলচ্চিত্র নির্মাণ চালিয়ে যাবেন—এমনই অঙ্গীকার তিনি ব্যক্ত করেছেন। তাঁর বক্তব্য, একজন শিল্পীর কাছে ধর্মীয় উগ্রবাদের বিরুদ্ধে কথা বলা কিংবা চেতনার নামে মানুষকে ক্ষতি করার বিরুদ্ধে দাঁড়ানো একইভাবে স্বাভাবিক ও প্রয়োজনীয়।

সারকথা, ‘শনিবার বিকেল’ প্রেক্ষাগৃহে না আসার পিছনে কোন রহস্যময় রাজনৈতিক নীরবতা নয়—এটি মূলত সেন্সর বোর্ডের প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা, পরে ওটিটি মুক্তি ও ব্যবসায়িক বাস্তবতার জটিলতার ফল।