ঢাকা | মঙ্গলবার | ৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৪শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১৯শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

ফিকি: বিনিয়োগবান্ধব, স্বচ্ছ ও পূর্বানুমানযোগ্য করব্যবস্থা প্রয়োজন

আসন্ন জাতীয় বাজেটকে সামনে রেখে ফরেইন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ফিকি) দেশে স্বচ্ছ, পূর্বানুমানযোগ্য এবং বিনিয়োগবান্ধব কর কাঠামো তৈরি করার আহ্বান জানিয়েছে।

সোমবার (৬ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনবিআর ভবনে অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় সংগঠনটি এ দাবি তুলে ধরে। সভায় সভাপতিত্ব করেন এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান। ফিকির সভাপতি রুপালী হক চৌধুরী ও সংগঠনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন। ফিকির পক্ষে বাজেট প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন স্নেহাশীষ মাহমুদ এবং স্নেহাশীষ বড়ুয়া।

ফিকি জানান, টেকসই বিনিয়োগ, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও রাজস্ব বৃদ্ধির জন্য একটি কার্যকর ও যৌক্তিক কর কাঠামো অত্যন্ত জরুরি। তারা বলেন, উচ্চ উৎসে কর এবং ব্যয়ের অযৌক্তিক বড় অংশ অগ্রহণযোগ্য ঘোষণা করার ফলে বাস্তব করহার আইনি হারের চাইতে অনেক বেশি হয়ে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতি শুদ্ধ করতে উৎসে কর কমিয়ে সেটি বাস্তবসম্মত পর্যায়ে আনার সুপারিশ করা হয়েছে।

সংগঠনটি ব্যক্তিগত আয়কর ব্যবস্থায় করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানো এবং নিম্নআয়ের শ্রেণির কর কাঠামো পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাব দিয়েছে, যাতে মধ্যবিত্ত ও বেতনভুক্ত শ্রেণির ওপর চাপ কমে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আসে।

অতিরিক্তভাবে প্রশাসনিক জটিলতা ও বিধি-নিযুক্ত কঠোর প্রয়োগের কারণে বৈধ ভ্যাট ইনপুট ক্রেডিট না পাওয়ার সমস্যা তুলে ধরে ফিকি বলেছেন, এটি ব্যবসায়িক মূলধনে চাপ সৃষ্টি করছে। ফলে ভ্যাট ক্রেডিট ব্যবস্থা সহজ করা এবং আন্তর্জাতিক হিসাব মান অনুসরণকারী ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে মুশক-৪.৩ জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

কাস্টমস ব্যবস্থায়ও শঙ্কা রয়েছে—লেনদেনমূল্য নির্ধারণে ২০০০ সালের ভ্যালুয়েশন রুলস যথাযথভাবে অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হয়। পণ্য ছাড়ার সময় বিলম্ব কমাতে ব্যাংক গ্যারান্টির ভিত্তিতে প্রভিশনাল অ্যাসেসমেন্ট ব্যবহারের প্রস্তাবও দেন তারা।

ফিকি অথরাইজড ইকোনমিক অপারেটর (AEO) কার্যক্রমকে সহজ করে এতে অংশগ্রহণ বাড়াতে স্পষ্ট ছাড় ও প্রণোদনার আহ্বান জানিয়েছে। এছাড়া আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমসকে সমন্বিত করে একটি ডিজিটাল করব্যবস্থা চালু করলে দক্ষতা বাড়বে, পুনরাবৃত্তি কমবে এবং তথ্যভিত্তিক তদারকি সম্ভব হবে বলেও তারা মনে করে।

সংগঠনটি আরও মন্তব্য করে যে বর্তমানে করের চাপ মূলত নিয়ম মেনে চলা করদাতাদের ওপর বেশি পড়ছে; তাই করজাল সম্প্রসারণ, ব্যবসায়িক কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিকীকরণ এবং সহজ করপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে নতুন করদাতা যুক্ত করা জরুরি।

ফিকির সভাপতি রুপালী হক চৌধুরী বলেন, আগামী নভেম্বর ২০২৬-এ এলডিসি উত্তরণের আগে বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় আছে। বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে মানসম্মত, পূর্বানুমানযোগ্য ও স্বয়ংক্রিয় করব্যবস্থা গড়ে তোলা অপরিহার্য। তিনি যোগ করেন, ঝুঁকিভিত্তিক নিরীক্ষা ব্যবস্থা চালু হলে নিয়ম মেনে চলা করদাতাদের ওপর চাপ কমবে এবং কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন অনুযায়ী কার্যকর নজরদারি করতে পারবে।

সভাপতির বক্তব্যের জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান সংস্লিষ্টরা জানান, গতবার ফিকির অনেক প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল এবং সেগুলো বিবেচনায় নেয়া হয়েছে। তিনি জানান, আগামী বছর করপোরেট ট্যাক্স রিটার্ন সম্পূর্ণ অনলাইনে নেওয়া হবে এবং করহেনস্থতা কমাতে নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।