ঢাকা | রবিবার | ৮ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১৯শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

ফিলিং স্টেশনে ভিড় অব্যাহত, যানবাহীর লাইন প্রতিদিন দীর্ঘ হচ্ছে

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও হরমুজ প্রণালীর ব্যাহত কাটি‌য়ের প্রভাবে বাংলাদেশে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা বাড়ায় রাজধানীর পেট্রোল পাম্পগুলোতে গত কয়েক দিন ধরে মানুষের উদ্বেগমিশ্র ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। শনিবার (৭ মার্চ) দুপুরে বিজয় সরণি, মহাখালীসহ ঢাকার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানবাহনের সারি দেখা গেছে; পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অনেক স্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে মাঠে নামতে হয়েছে।

সরেজমিন পরিস্থিতি অনুযায়ী, বিজয় সরণির ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন থেকে শুরু করে মহাখালী পর্যন্ত শত শত মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার লাইনে দাঁড়িয়ে ছিল। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর তেল না পেয়ে নানা কিছু নিয়ে চালকদের অসন্তোষ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। আশিকুজ্জামান চয়ন নামে এক মোটরসাইকেল চালক বলেন, দুই ঘণ্টার বেশি লাইনে দাঁড়িয়ে তিনি মাত্র ৩০০ টাকার তেল নিতে পেরেছেন। আরেক চালক রাব্বি জানান, ‘‘পাম্প বন্ধ হয়ে যেতে পারে’’—এমন গুজবে বাধ্য হয়ে তিনি বড় লাইনে দাঁড়িয়েছেন, কারণ গাড়িতে তেল না থাকলে চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে।

এই অস্বাভাবিক ভিড় আটকাতে এবং সবার মাঝে তেলের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) নতুন জ্বালানি সংগ্রহ নির্দেশিকা জারি করেছে। নির্দেশনা অনুযায়ী—একটি মোটরসাইকেল সর্বোচ্চ ২ লিটার, একটি প্রাইভেটকার সর্বোচ্চ ১০ লিটার, জিপ/মাইক্রোবাস ২৫ লিটার, পিকআপ ৮০ লিটার এবং দূরপাল্লার বড় ট্রাক বা বাস সর্বোচ্চ ২২০ লিটার পর্যন্ত তেল নিতে পারবে। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, মজুদ রক্ষা ও জোগান স্বচ্ছ রাখতেই এই রেশনিং ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সরকারি পক্ষ থেকে বারবার অনুরোধ করা হচ্ছে মানুষ আতঙ্কিত না হোক এবং জল্পনা ছড়াবেন না। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বিভিন্ন পাম্প পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের বলেছেন, দেশে বর্তমানে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার সবরকম ব্যবস্থা নিচ্ছে। তিনি স্বীকার করেছেন যে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দর বাড়ায় চাপ বাড়ছে, তবে সরকার এখনই দেশে জ্বালানির মূল্য বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেবে না বলেই চেষ্টা করছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ইতিমধ্যেই দ্বিগুণ দামে দুই কার্গো এলএনজি আমদানি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদও জনগণকে অনুরোধ করে বলেছেন, ব্যক্তিগত চাহিদার চেয়ে বেশি তেল মজুদ করে বাজার অস্থিতিশীল করবেন না। বিপিসি জানিয়েছে, চলমান যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতেও তেলের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গুজব রোধ এবং সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখতে কঠোর নজরদারি ও তদারকি চলছে।

একজন পাম্প কর্মী বললেন, গত কয়েক দিনে গাঢ় উদ্বেগ ও দ্রুত সংগ্রহ করার মানসিকতা দেখা গেছে; ফলে পাম্পগুলোতে মানুষের ঢল বাড়ছে। সরকারের আশ্বাস ও রেশনিং বিধিমালা সত্ত্বেও অনেকে এখনই তেল নিতে চাইছেন যাতে ভবিষ্যতে চলাফেরায় সমস্যা না হয়।

মার্কিন, মধ্যপ্রাচ্য ও আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা টেকসইভাবে নেমে আসা না গেলে দেশি বাজারে প্রভাব পড়তে পারে—এমন আশঙ্কা থাকলেও সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং বাজার স্থিতিশীল রাখতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। নাগরিকদেরও অনুরোধ করা হচ্ছে প্রয়োজন অনুযায়ী তেল নিন, গুজবে কান দেবেন না এবং সবার জন্য তেল সংগ্রহকে সুষম রাখার চেষ্টা করবেন।