ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার যশপুরের মটুয়া সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ ১১ জন বাংলাদেশিকে জোরপূর্বক পুশইন করেছে। ঘটনাটি গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে দুইটার সময় ঘটে।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) জানিয়েছে, গভীর রাতে ফেনী ব্যাটালিয়নের টহলদল ছাগলনাইয়া উপজেলার মটুয়া এলাকায় টহল দেওয়ার সময় শিশুসহ এই ১১ জন বাংলাদেশিকে আটক করে। তাদের মধ্যে একজন পুরুষ, সাতজন মহিলা এবং তিনজন শিশু রয়েছে। বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিএসএফ রাতের অন্ধকার ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার সুযোগ নিয়ে তাদেরকে সীমান্তের ভারতীয় অংশে নিয়ে যায় এবং সেখান থেকে পরিকল্পিতভাবে জোরপূর্বক বাংলাদেশে ফিরে আসতে বাধ্য করে।
আটককৃতরা জানান, তারা বিভিন্ন সময় বাসাবাড়ির কাজ এবং অন্যান্য শ্রমের উদ্দেশ্যে দালালদের মাধ্যমে চোরাই পথে বেনাপোল দিয়ে ভারতে গিয়ে থাকেন। তাদের জন্ম নিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই করে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে তারা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক, এবং তাদের বাড়ি ঝিনাইদহ, যশোর ও সাতক্ষীরার বিভিন্ন অঞ্চল।
বিজিবি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর এই বাংলাদেশিদের ছাগলনাইয়া থানা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেছে।
আটককৃতদের নামের তালিকায় রয়েছেন নড়াইল জেলার কালিয়া থানার যাদবপুর গ্রামের মৃত হাসান শেখের পুত্র মো. রাসেল হাসান শেখ (৩৩), একই গ্রামের মৃত আবু বক্করের মেয়ে শ্যামলী খাতুন (৩৫), নড়াইল থানার পলি ডাঙ্গা গ্রামের আজিজুল ফকিরের মেয়ে সোনালী খাতুন (৩২), যশোর থানার পেরুলিয়া গ্রামের রবিউল হকের স্ত্রী হোসনেয়ারা (৪০), নোয়াপাড়া থানার নওলী মোল্লা বাড়ি গ্রামের মৃত রৌশন মোল্লার মেয়ে সালমা (৪৫), মিনা (৪২), সাতক্ষীরা কলারোয়া থানার কাতপুর গ্রামের মৃত আকবর আলী মন্ডলের স্ত্রী হোসনে আরা বেগম (৬০) ও তার পরিবারের তিন ছেলে: জিয়ারুল (১১), তৌহিদুল (৯), এবং ইসমাইল (৭)।
বিজিবি আরও জানিয়েছে, এ ঘটনার বিষয়টি নিয়ে ফেনী ৪ বিজিবি কোম্পানী কমান্ডার বিএসএফ কোম্পানী কমান্ডারকে মৌখিক প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক প্রতিবাদপত্র প্রেরণ করেছেন। সীমান্তে এই ধরনের পুশইন প্রতিরোধে বিজিবি সর্বাত্মক কঠোর অবস্থানে রয়েছে।









